© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তিন ঘণ্টার ‘ট্রাক জার্নিতেই’ কাঁচা পেঁপে পেকে হলুদ!

শেয়ার করুন:
তিন ঘণ্টার ‘ট্রাক জার্নিতেই’ কাঁচা পেঁপে পেকে হলুদ!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৯ পিএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর মাত্র তিন-চার ঘণ্টার ব্যবধান। এর মধ্যেই একেবারেই কাঁচা শক্ত সবুজ পেঁপে হয়ে যাচ্ছে টকটকে হলুদ পাকা ফল।

অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম উপায়ে পাকানো পেঁপে ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে, যা পরে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইলের ১৩ নম্বর চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, চরশ্রীরামপুর ও আনন্দ বাজারসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাগান থেকে কাঁচা পেঁপে পাইকারি দরে কেনা হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে পাইকাররা কেনেন ১০ থেকে ১২ টাকায়। পরে তা একটি নির্দিষ্ট ঘরে বা আড়তে এনে স্তূপ করা হয়।


সেখানে শ্রমিকরা একেকটি কাঁচা পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে বড় বড় ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলেন। 
পাইকাররা বলছেন, নান্দাইল থেকে ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে যে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে, তার মধ্যেই কাঁচা পেঁপে সম্পূর্ণ পেকে টকটকে লাল-হলুদ রং ধারণ করে। তবে অনেকের অভিযোগ, কৃত্রিম উপায়ে পাকানোর পর ১০-১২ টাকা কেজিতে কেনা পেঁপে রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। 

উপজেলার চর বেতাগৈর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তার নিজের পেঁপে বাগান রয়েছে।

পাশাপাশি অন্য চাষিদের কাছ থেকেও বাগানচুক্তিতে কিনে নেন তিনি। সম্প্রতি ১৫০টি পেঁপে গাছের একটি বাগান ফলসহ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন এই ব্যবসায়ী। 

নিজের বাগান থেকে সংগ্রহ করা বা চর থেকে কেনা পেঁপে কারওয়ান বাজারে চড়া দামে বিক্রির কথা স্বীকার করলেও রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন শাহজাহান। তার দাবি, কাঁচা পেঁপেতে কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক দেওয়া হয় না। পত্রিকার পাতা দিয়ে মোড়ানোর পর ভেতরের গরমে বা তাপে পেঁপেগুলো এমনিতেই পেঁকে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নান্দাইলের চর শ্রীরামপুরের কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, কাগজ দিয়ে মোড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে পেঁপেগুলোতে এক ধরনের তরল রাসায়নিক স্প্রে মেশিন দিয়ে ছিটানো হয়। এতে ঢাকার বাজারে পৌঁছানোর আগেই কৃত্রিমভাবে পেকে যায় সব পেঁপে। একটি অসাধু চক্র এর সঙ্গে জড়িত বলে দাবি তাদের। 

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, রাসায়নিকযুক্ত ফল খাওয়ার ফলে মানুষের লিভার, কিডনি বিকল হয় এ ছাড়া এতে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘সব পেঁপেতেই কার্বাইড বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয় না। গাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা পরিপক্ক পেঁপে এমনিতেই কাগজে মুড়িয়ে রাখলে স্বাভাবিক তাপে পেকে যায়। তবে নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে পাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং কোনো নিষিদ্ধ রাসায়নিক প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন