নানা পাটেকারের বিখ্যাত কিছু ডায়ালগ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৬ পিএম | ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
বলিউডের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন হারাল বজ্রকণ্ঠের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও দক্ষ নির্মাতা নানা পাটেকারকে।
রুপালি পর্দায় ‘ক্রান্তিবীর’-এর সেই দরাজ কণ্ঠের নতুন কোনো সংলাপ আর হয়তো শোনা যাবে না। তবে দীর্ঘ অভিনয় জীবনে উপহার দেওয়া কালজয়ী ও অনন্য সব চরিত্রের মধ্য দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয়ে তিনি চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন।
কয়েক দশকব্যাপী বিস্তৃত বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়শৈলীর রাজত্ব বজায় রেখেছিলেন নানা পাটেকার। বিশেষ করে নিখুঁত অভিব্যক্তি আর সংলাপ ক্ষুরধার উপায়ে উপস্থাপনের জন্য তিনি ছিলেন অনন্য।
১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় তার দেওয়া, ‘এক মচ্ছর সালা আদমি কো হিজড়া বানা দেতা হ্যায়’ কিংবা ‘আ গায়ে মেরি মউত কা তামাশা দেখনে!’ সংলাপ দুটি আজও সিনেপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে।
এর আগে ১৯৮৯ সালে ‘পরিন্দা’ চলচ্চিত্রে গ্যাংস্টার চরিত্রে অভিনয়ের সময় তার সেই বিখ্যাত উক্তি—‘ধান্দে কা এক হি উসুল হ্যায়... আপনা ফায়দা দেখো, বাস’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক সংলাপ হিসেবে স্থান পায়।

কেবল গম্ভীর রাজনৈতিক বা অপরাধ জগতের চরিত্রই নয়, কৌতুকপ্রধান চলচ্চিত্রেও সমান পারদর্শী ছিলেন নানা পাটেকার। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওয়েলকাম’-এ গ্যাংস্টার ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রে অভিনয় করার সময় তাঁর ‘কন্ট্রোল, উদয় কন্ট্রোল!’ এবং ‘ভগবান কা দিয়া সব কিছু হ্যায়—দৌলাত হ্যায়, শোহরাত হ্যায়, ইজ্জত হ্যায়’ সংলাপগুলো তরুণদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়, যা বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ চর্চিত।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘আব তাক ছাপ্পান’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী এই বরেণ্য অভিনেতা। জানা গেছে, বাসভবনে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সকাল ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসএন