© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাহফিলের নিলামে এক হালি কমলা বিক্রি হলো ৫০ হাজার টাকায়

শেয়ার করুন:
মাহফিলের নিলামে এক হালি কমলা বিক্রি হলো ৫০ হাজার টাকায়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২৪ পিএম | ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
ঘড়ির কাঁটায় রাত একটা বাজে, তখন মাহফিলের প্রধান অতিথি শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী বয়ান করছেন। বয়ান শেষে মাদরাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা তিনি প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে এই চারটি কমলা নিলামের মাধ্যমে অর্ধলাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রবাসী।

এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসার ওয়াজ মাহফিলে।

জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসার ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই মাহফিলে মাদরাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন, মাহফিলের প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তা, শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী। এসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে পুরো ওয়াজসহ নিলাম পর্ব লাইভ চলছিল। নিলামের একপর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে চারটি কমলা কেনেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। 

ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী শ্রোতারা বলেন, মাহফিল শেষে দোয়ার আগে কমলাগুলো নিলামে তোলা হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। নিলামে যারা অংশগ্রহণ করেছেন সবার উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয়।

নিলামে কমলা কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন এর ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, আমার বাবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে কমলাগুলো ক্রয় করেছেন। এছাড়াও বছরে ৩৬ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সবসময় পাশে থাকেন। মাদরাসার পক্ষ থেকে এই মাহফিলগুলো করা হয় সবাই যেন সহযোগিতা করেন।  

মরিচা মাদরাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মাদরাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদরাসার সহযোগিতার কথা চিন্তা করে বিগত কয়েক বছর ধরে ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলাম করা হয়। এবার চারটি কমলা নিলামে তোলা হলে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও আধাকেজি খেজুর ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। মূলত এই ফলগুলো এত দামে বিক্রি হওয়ার কারণ হলো- মাদরাসায় সহযোগিতা করা। যারা ফল কিনেছেন তিনি হলেন- আমাদের মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষী। 

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন