শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভেনথাম নাভি পিলাই
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৮ পিএম | ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে।
সংবাদমাধ্যম এপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া পিল্লাইয়ের বয়স ৮৫ বছর। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানান নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস।
এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাতের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা ছাড়াই সংঘাত নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্মরণ করিয়ে দিতে চায় কমিটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মতো আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের পূর্বশর্ত।
পুরস্কার ঘোষণার পর পিল্লাইয়ের সঙ্গে নোবেল কমিটি টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছর পুরস্কারের জন্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন জমা পড়ে। মনোনীতদের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন সংগঠন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরব ও ধারাবাহিক কাজকে গুরুত্ব দেয়।
গত বছর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকার জন্য বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়ে রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মাচাদো তাঁর নোবেল পদক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। তবে এটি ছিল মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, পুরস্কারের সম্মাননা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, সাবেক নোবেলজয়ী এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সদস্যসহ নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে পারেন।
এ সপ্তাহের শুরুতে ২০২৬ সালের চারটি নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বুঝতে আলো ব্যবহার করে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানী পুরস্কার পেয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞানে একধরনের বিরল নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে একজন বিজ্ঞানীকে। আর অণুর রহস্যময় দর্পণ-প্রতিচ্ছবি নিয়ে গবেষণার জন্য দুই বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণা থেকে অসংখ্য ওষুধ তৈরির পথ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। ধ্রুপদি ও আধুনিক সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটানো এবং কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত সীমারেখা ভেঙে দেওয়া তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
আগামী সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। কোনো একক ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ী কিংবা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেলেও অর্থের পরিমাণ একই থাকবে।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। ১৯০১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১১২ জন ব্যক্তি ও ২৮টি প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার পেয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস তিনবার এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা দুবার পুরস্কারটি পেয়েছে।
এ পর্যন্ত ১৯ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এর অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার বছরও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়নি। গান্ধী ১২ বার মনোনয়ন পেলেও কখনো এ পুরস্কার পাননি।
১৯৩৯ সালে সুইডেনের একজন সংসদ সদস্য জার্মানির তৎকালীন নেতা অ্যাডলফ হিটলারকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জানান, বিষয়টি তিনি কখনোই গুরুত্বের সঙ্গে করেননি।
এমআর/টিএ