পরীক্ষার ৫ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরব হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০২ পিএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে আজ। এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘নির্মম রসিকতা’ করা হয়েছে এর মাধ্যমে।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের এই পরীক্ষা শনিবার (১০ অক্টোবর) হওয়ার কথা ছিল। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পর অধিদপ্তর পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল শনিবার বেলা ১১টায়। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের জন্য সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল।
পরীক্ষার আগের রাতেই ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, অধিদপ্তরের একটি বড় চক্র এতে জড়িত। চক্রে নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার আত্মীয়ও আছেন বলে বলা হয়। ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, প্রার্থীদের সঙ্গে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ সত্য কি না, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার অভিমত, আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁসের খবর জানা গেলেও পরীক্ষা বাতিল হয়েছে পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিট আগে, এতেই পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্মম রসিকতা হয়েছে। তিনি বলেন, কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসেছে—নিজের মেরিট দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়। অথচ, গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিলো। আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০ টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকলো, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, "প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল।" কী নির্মম রসিকতা!’
প্রার্থীদের ক্ষতি, জনগণের টাকায় আবারও পরীক্ষার আয়োজন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে? সরকার আবারো পরীক্ষার আয়োজন করতে ডাবল টাকা খরচ হবে। এই টাকা জনগণের টাকা। এই জবাবদিহিতা কে করবে?’
দোষীদের শাস্তি নিয়েও তিনি দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করতে হবে।’
মন্ত্রীর দায় নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।’
এমআর/টিএ