দিল্লি বিমানবন্দরে ককরোচ প্রধান অভিজিৎকে হেনস্তা
ছবি: সংগৃহীত
১০:২১ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন দেশটির তরুণদের অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে হেঁটে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে দীপকের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘‘দেশটা কেন ধ্বংস করছেন?’’ সিজেপি নেতাকে এ সময় হাসিমুখে ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বুড়ো আঙুল প্রদর্শন করে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
গত ১০ অক্টোবর মারা যান দীপকের দাদী। নিজ জন্মস্থান মহারাষ্ট্রে দাদির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য যান তিনি। সেখান থেকে বুধবার বিকেলে রাজধানীতে ফিরেছেন দেশটির এই তরুণ আন্দোলনকারী নেতা। এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সিজেপির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে বিমান থেকে নামার পরপরই দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করে হেফাজতে নেয়।
রাজধানীতে ফিরে আসার পর দীপকে তার সহযোগী আন্দোলনকারী আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজত নিয়ে কড়া ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেছেন।
এই গ্রেপ্তার ও পাঁচ দিনের হেফাজতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা বা তেরঙা উত্তোলন করা কি এই দেশের কোনো অপরাধ?
দিল্লিতে পৌঁছে দীপকে বলেন, ‘‘তেরঙা উত্তোলন করা কি অপরাধ? আশুতোষ ও সৌরভকে পাঁচ দিনের জন্য কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কেন? কারণ তারা যন্তর মন্তরে গিয়ে তেরঙা উত্তোলন করেছিল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল যখন ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করত। ব্রিটিশ আমলে জনসমক্ষে যারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করত, সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হতো।’’
গত সোমবার যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল করার সরকারি ঘোষণার ঠিক একদিন পর মঙ্গলবার সকালে সিজেপির সদস্যরা যন্তর মন্তরে আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এর পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দীপকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাঙ্কা ও দাসসহ সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকরা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি গেট বেয়ে উপরে উঠছেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করার আগে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং স্লোগান দেন তারা।
যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের দায়ে এবং এর একদিন আগে দেওয়া জামিনের মুচলেকা লঙ্ঘন করার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর আগে গত সোমবার এক বছরের জন্য শান্তি বিঘ্নিত না করার শর্তে দীপকে, রাঙ্কা ও দাসকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ভোট চুরির অভিযোগে চলমান বিক্ষোভ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। ওই দিন বিরোধীদলীয় নেতারা ব্যারিকেড দেওয়া পথ ধরে ‘গণতন্ত্রের পদযাত্রা’ নামে কর্মসূচি পালন এবং স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের (এসআইআর) বিরুদ্ধে ও নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে যৌথ পিটিশন দায়ের করেন।
সূত্র: এনডিটিভি
এমআর/টিএ