© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতীয় কৃষি এখন আর লাভজনক খাত নয়, তাই শ্রমিক পাওয়া যায় না: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন:
জাতীয়  কৃষি এখন আর লাভজনক খাত নয়, তাই শ্রমিক পাওয়া যায় না: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:০৩ পিএম | ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না।'

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক সময় তা রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তীতে বীজ আলু বা ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেই আলুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সংকট সমাধানে তিনি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের তাগিদ দেন।

সভায় পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় তিনি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতি বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে 'বারি কাঁঠাল-৬' জাতের একটি চারা রোপণ করেন।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন