© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কনট প্লেসে বিক্ষোভ করতে পারবেন অভিজিৎ: দিল্লি হাইকোর্ট

শেয়ার করুন:
কনট প্লেসে বিক্ষোভ করতে পারবেন অভিজিৎ: দিল্লি হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:২৮ পিএম | ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের দিল্লির কনট প্লেসে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ করতে পারবেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিক্ষোভ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। খবর হিন্দুস্তান টাইমস–এর।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানিতে এ অবস্থান জানান আদালত। এর আগে পালিকা বাজারের লাইসেন্সধারী এক হকার অনিল কুমার গুপ্ত আবেদনটি করেন। তার আশঙ্কা, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। 

শুনানিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, আবেদনকারীর উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ৩ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর দেশজুড়ে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। এ কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্য শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে দীপকে বলেন, ত্রিবর্ণ পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।

এর আগে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় নিজেও গ্রেফতার হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। 

সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর সেখানে প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও সিজেপির কর্মী অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দাস ও রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়ে তিহার কারাগারে নেওয়া হয়।

পুলিশের অভিযোগ, জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক দিন পর সেখানে প্রবেশ করেন তারা। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পুলিশ অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়।

১৬ অক্টোবরের বিক্ষোভ বন্ধের আবেদনে বলা হয়, সেন্ট্রাল পার্ক নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল নয়। সেখানে জমায়েত হলে যান চলাচল, জনসাধারণের চলাচল এবং কনট প্লেসের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। উৎসবের মৌসুমে এ আশঙ্কা আরও বেশি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে চিহ্নিত করেছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসআইআর-সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির আপত্তির কথা প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিরোধী দলগুলো, সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) এবং বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও কৃষক সংগঠন।

গত ১০ অক্টোবর জন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দিল্লি হাটের দিকে যেতে বাধা দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা ও কর্মীকে বিক্ষোভ চলাকালে আটক করা হয়।

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তার বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই সিজেপির নেতা দীপকে, দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশি অভিযানের সময় দিল্লিজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়।

এমআর/এসএন 


মন্তব্য করুন