© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খাবারের আকুতি জানানো সাজু শেখের স্ত্রী আর নেই

শেয়ার করুন:
খাবারের আকুতি জানানো সাজু শেখের স্ত্রী আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২৬ পিএম | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
‘আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’ এমন আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা ৮০ বছর বয়সী সাজু শেখের স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৭৫) আর নেই। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নূরজাহান বেগমকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ছয় দশকেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের অবসান হলো। জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ সাজু শেখ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস মিয়া নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় ছিলেন নূরজাহান। রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় নূরজাহান বেগমের। এরপর থেকে তিনি চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অভাবের সংসারে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অসুস্থ স্ত্রীর সেবা-যত্নের পাশাপাশি খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো বৃদ্ধ সাজু শেখকে।

প্রায় ৬৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগমের তিন মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে। তিন মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মেয়েদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে বাবার খোঁজখবর নেন। তিন ছেলের মধ্যে একজন করোনাকালে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে যোগাযোগ রাখেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং বছরে দুয়েকবার বাড়িতে আসেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায় সাজু শেখকে। তার অসহায়ত্বের দৃশ্য দেশজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ নেওয়া হয়। তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় মানবিক সহায়তাও।

তবে বার্ধক্য, অসুস্থতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই থামেনি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে হারিয়ে একা হয়ে গেলেন সাজু শেখ। যে মানুষটির মুখে খাবার তুলে দিতে একদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে এখন তার জীবনে নেমে এসেছে আরও গভীর শূন্যতা।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন