ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, পশ্চিম তীরজুড়ে অবরোধের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত
১২:১০ এএম | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফুল লকডাউন বা পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত হওয়ার পর দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ ঘটনার পরই পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এ ঘটনা ও অবরোধের নির্দেশ দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হেবরন শহরে অবরোধ আরোপ করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে পুরো অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফুল লকডাউন কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে বা কত দিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের কাছে একটি এম১৬ রাইফেল ও একটি পিস্তল ছিল বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হেবরনের কাছে ইয়েহুদা মোড়ে একাধিক ব্যক্তি হতাহত হওয়ার খবর পায় তারা। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে অন্তত পাঁচজনকে চিকিৎসা দেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। আহত ব্যক্তিরা বেসামরিক নাগরিক নাকি সেনাসদস্য, তা-ও স্পষ্ট করেননি নেতানিয়াহু।
জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের পর নেতানিয়াহু এ হামলার জন্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে দায়ী করেন। তার দাবি, হামাস নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল।
তিনি আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি। হামলা প্রতিহত করার জন্য ইসরায়েলি সেনাদের প্রশংসা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার সরকার নির্বাচনের আগে দেশের শত্রুদের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে। তবে এসব আশঙ্কার পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির হেবরনের কাছে কথিত হামলার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিম তীরের কিছু অংশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও।
স্মোত্রিচের দাবি, পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ এবং সশস্ত্র ব্যক্তিদের নির্মূল করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গাজা ও লেবাননে পরিচালিত অভিযানের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এদিকে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও সেনা তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
জলপাই সংগ্রহের কাজে ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও হামলার শিকার হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউইয়র্কের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার কয়েকজন অধিকারকর্মী ও মার্কিন ইহুদি ধর্মীয় নেতার সঙ্গে ওই এলাকায় আটক হয়েছিলেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহেই জলপাই সংগ্রহের মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ১৬০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এসব হামলার অনেকগুলোই ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষায় বা তাদের অংশগ্রহণে সংঘটিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে সমর্থন দিয়ে আসছে। বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
পশ্চিম তীরে ফুল লকডাউন কার্যকরের প্রস্তুতির মধ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা ও সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একেএস/টিএ