নিখোঁজের পর সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫০ এএম | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম মারা গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ দুষ্কৃতকারীরা তাকে কোনো চেতনানাশক খাইয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শনিবার ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।
নিহত মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজার মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরব বাজার বাসায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন তিনি মাদরাসায় আছেন। কিন্তু ওই সময় কে বা কারা তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অচেতন করে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। তবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো রক্তাক্ত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, চেতনানাশক কোনো বস্তু খাইয়ে বা স্প্রে করে তাকে ফেলে রাখা হতে পারে। ঘটনার পর এক স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদের মাধ্যমে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু মাওলানা জসিমের একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে পেস্ট করেন। ভিডিওর সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী যুবকের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দ্রুত ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। পরিবারের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করে ভৈরব হাসপাতালে যান। সেখানে যাওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়ির মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
এতিবে কিভাবে মৌলভীবাজার থেকে আশুগঞ্জ-ভৈরব তিনি গেলেন তা তদন্ত করে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তার পরিচিতরা।
নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার বলেন, শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মনে করেছেন তিনি মাদরাসায় আছেন। দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও দেখে বিষয়টি জানতে পারি। ভৈরবের একটি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই রহস্যজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একেএস/টিএ