ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআই’র দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৯ পিএম | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. শরিফ বলছেন, ওই সময় তাকে মারধর করে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরে তাকে ‘অপহরণ করে’ একটি প্রাইভেটকারে তুলে অন্যত্র নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ডিজিএফআই’র দুই সদস্য ও এক আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, শ্যামলীর শিশুমেলা এলাকায় শনিবার রাতে তাদের নিয়মিত চেকপোস্ট ছিল। রাত পৌনে ৩টার দিকে সেখানে একটি গাড়ি থেকে নেমে ওই ভুক্তভোগী পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ সেখানেই পাঁচজনকে আটক করে এবং অপহরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়। তবে ঘটনার সূত্রপাত মোহাম্মদপুরে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার ও আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. শরিফ মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। ভাষানটেক এলাকায় প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার রাতে সোহেলের কথামতো মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে তিনি মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান। সেখানে সোহেল তাকে একটি বাসার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী ও সোনিয়া নামে এক নারী ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তাঁরা শরিফকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা তিনি দেন। তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে মারধর করেন ওই ব্যক্তিরা। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এরপর আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করে তারা।
এজাহার অনুযায়ী, শরিফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালান। পরে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে বাসা থেকে নামিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে ছিলেন মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম রামে আরও দুজন। তাকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়িতে আটকে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা চা পান করতে নামলে পুলিশের গাড়ি দেখে শরিফ গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে যান। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে ঘটনা জানান। শরিফের অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের এসআই রাসেল ইসলাম তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় জিয়াউলের চালানো সাদা রঙের টয়োটা গাড়িটিও জব্দ করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে আজ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন শরিফ। মামলায় আল মামুন, নুরুজ্জামানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আরআই/টিএ