‘পকেট স্টুডিও’ খ্যাত কিনেমাস্টারের গল্প
ছবি: সংগৃহীত
১০:০০ এএম | ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
স্মার্টফোনে ভিডিও এডিটিংয়ের দুনিয়ায় ‘পকেট স্টুডিও’ খ্যাত কিনেমাস্টার এক স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্ম। মোবাইল সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি অপরিহার্য এক ডিজিটাল মাধ্যম। পরে ক্যাপকাটের মতো কিছু অ্যাপ এলেও এবং জনপ্রিয় হলেও, পেশাদার এডিটিং ও ডেটা প্রাইভেসির ক্ষেত্রে কিনেমাস্টার সবসময় অনন্য।
এবার অ্যাপটি নিয়ে এসেছে দারুণ সব আপডেট। এর ফলে মোবাইল ভিডিও এডিটিংয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। এখন থেকে বাংলাদেশে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে কোনো ওয়াটারমার্ক ছাড়াই। এর পাশাপাশি এতে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক অত্যাধুনিক এআই সুবিধা।

কিনেমাস্টারের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের শেষের দিকে। সেই সময় মোবাইলের ছোট পর্দায় ডেস্কটপ মানের এডিটিং অভিজ্ঞতা দেওয়া ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ! তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দিকে অ্যাপটি বিশ্বজুড়ে পেশাদার মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ২০১৯ সালে যখন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এশিয়ার প্রথম মোবাইল জার্নালিজম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেখানেও পার্টনার হয়েছিল কিনেমাস্টার। কিনেমাস্টার সেশন চলাকালে সেই মঞ্চে আমি উঠেছিলাম। বৈশ্বিক আসরে কিনেমাস্টারের সুবিধা নিয়ে কথা বলেছিলাম।
এরপর ২০২০ সালে বৈশ্বিক কোভিড মহামারি চলাকালে কনটেন্ট তৈরির হিড়িক পড়লে এর গ্রাহক সংখ্যায় অবিশ্বাস্য বিস্ফোরণ ঘটে। বাংলাদেশের শত শত মোবাইল জার্নালিস্ট এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে আমি ( সাব্বির) পরিচিত করে তুলেছিলাম এটিকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এর কোটি কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী। বিশেষ করে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বাজারগুলোতে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে কিনেমাস্টার পরিণত হয় একচ্ছত্র মানদণ্ডে।
কেন এটি অনন্য ও সেরা?
বাজারে বহু ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এলেও বেশিরভাগই নিছক বিনোদনমূলক শর্ট ভিডিও বা সস্তা ফিল্টারের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে কিনেমাস্টার শুরু থেকেই জোর দিয়েছে পেশাদার মানের ওপর। এর ফ্রেম-বাই-ফ্রেম কাটার সুবিধা, মাল্টি-লেয়ার ভিডিও ও অডিও নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত কালার গ্রেডিং এবং ব্রডকাস্ট মানের এক্সপোর্ট বড় স্ক্রিনে প্রচারযোগ্য কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতা দেয়।
অন্যান্য আধুনিক অ্যাপের তুলনায় এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ‘ডেটা প্রাইভেসি’। অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ ভিডিও প্রসেসিং দ্রুত করার জন্য ক্লাউড সার্ভারে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ফুটেজ সংরক্ষণ করে, যা গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি ক্যাপকাটের মত জনপ্রিয় এডিটিং অ্যাপস গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের ফুল এক্সেস নিয়ে নেয়। কিন্তু কিনেমাস্টার অন-ডিভাইস বা শতভাগ লোকাল প্রযুক্তিতে কাজ করে। ফলে ব্যবহারকারীর তৈরি করা ভিডিও বা ছবির তথ্য তাদের নিজস্ব ডিভাইসেই সুরক্ষিত থাকে, কোম্পানির সার্ভারে পৌঁছায় না। সাংবাদিকদের কাজের জন্য এটি নিরাপদ ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশের জন্য ফ্রি ঘোষণা
সম্প্রতি উন্মুক্ত হওয়া কিনেমাস্টার ৮.২ সংস্করণে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। ট্যাবলেট ও বড় স্ক্রিনের ডিভাইসের জন্য এতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক এডিটিং ইন্টারফেস, টাইমলাইনে একাধিক ফাইল নিয়ন্ত্রণের মাল্টি-সিলেক্ট টুল এবং সমন্বিত ভিডিও ব্রাউজার।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মোবাইল জার্নালিস্টদের জন্য। কোনো প্রকার পেইড সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই দেশের সব ব্যবহারকারীর জন্য ওয়াটারমার্ক সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। এডিটিং স্ক্রিনের বাধ্যতামূলক বিজ্ঞাপন বন্ধ করে প্রতিদিন প্রথম ৫টি এক্সপোর্ট করা হয়েছে শতভাগ বিজ্ঞাপনমুক্ত। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ ক্রিয়েটরদের জন্য বিশ্বমানের ভিডিও তৈরির পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত।
সামনে এআই আর নতুন যা আসছে
প্রযুক্তির দৌড়ে কিনেমাস্টার এখন আরও আধুনিক। এই নভেম্বরের ৮.৩ সংস্করণে যুক্ত হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই মানুষ ও অন্যান্য অবজেক্ট আলাদা করার শক্তিশালী ‘এআই মাস্ক’ (AI Mask)। পাশাপাশি আসছে বছরে যুক্ত হতে যাচ্ছে অন-ডিভাইস ‘জেনারেটিভ এআই’ এবং ক্রোমবুকের জন্য পূর্ণাঙ্গ পিসি-স্টাইল এডিটিং পরিবেশ। মাঠপর্যায়ের মোজোদের কাজের দ্রুততা ও পেশাদার নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কিনেমাস্টার স্মার্টফোনেই পেশাদার কনটেন্ট নির্মাণের ভবিষ্যতকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।
লেখক: সাব্বির আহমেদ, মোবাইল জার্নালিজম এডিটর-ইন-চিফ
আরআই/টিএ