ইরানের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ শুরু করেছেন ট্রাম্প: ওবামা
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪৫ এএম | ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ওবামা। জবাবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে একটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি।
ওবামার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের চিত্র। যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক প্রভাবও এখন আলোচনায়।
পাল্টা জবাবে ওবামাকে আক্রমণ ট্রাম্পের
ওবামার সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রোববার একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ আখ্যা দেন এবং ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ সামনে আনেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ওবামা ইরানকে বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ট্রাম্পের পোস্টে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করে বিস্তারিত উল্লেখ করা প্রয়োজন।
২০১৫ সালে ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন।
যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ওবামার বক্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে পুরোনো বিতর্কও আবার সামনে এসেছে। দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ভোটারদের কাছে যুদ্ধের প্রশ্নটি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংঘাতের গতিপথের ওপর।
একেএস/টিএ