রিয়াসাদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল: বিসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি :সংগৃহীত
১১:২৭ এএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিয়াসাদ আজিম ঘিরে এবার বিতর্কের মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সংবাদ কাভারেজের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিসিবির বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, শুধুমাত্র রিয়াসাদ আজিমের কার্ডই আটকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রিয়াসাদ আজিমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়া মহলে আলোচিত ও সমালোচিত। ক্রীড়া জগতের খালেদ মহিউদ্দিন খ্যাত এই সাংবাদিক বিভিন্ন সময় বিসিবির কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব থেকেছেন। তাঁর প্রতিবেদনগুলোর ফলে বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে বলেও জানা যায়।
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, যখনই কোনো সাংবাদিক বিসিবির সমালোচনা করেছেন, তখনই তাঁকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এবার সরাসরি রিয়াসাদের সংবাদ কাভারেজের অধিকার আটকে দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রিয়াসাদ আজিম সরাসরি এই ইস্যুতে মন্তব্য না করলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ধরণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ঠিক এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা কাউন্ট করবো। আই মিন ইট। এরপর কি হবে, আপনাদের চিন্তারও বাইরে। বৃহস্পতিবার থেকে আমি আমার খেল শুরু করবো। ওপেন চ্যালেঞ্জ। তাঁর এই পোস্টের পরপরই বিসিবির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
রিয়াসাদের এই ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকেরা প্রতিক্রিয়া তীব্র জানিয়েছে। ওমর ফারুক খান নামের একজন সাংবাদিক বিসিবির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, রিয়াসাদ আজিম ভাইকে কে কেনো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেয়া হয়নি? এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সুস্পষ্ট স্টেটমেন্ট চাই।
অন্যদিকে, মুহাম্মাদ রহমান নামের একজন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, রিয়াসাদ বাংলাদেশ ক্রীড়া জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক। উনি যে অনুসন্ধানী মূলক প্রতিবেদন গুলো করেন, তা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। শুনলাম তাঁর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। আমি এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যারা আছেন, তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি , রিয়াসাদের মতো এমন প্রতিবাদি মানুষকে যদি থামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এর থেকে লজ্জার কিছু নেই।
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফারুক ভাই আপনার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষন করছি, আপনি জানেন আপনি কি করেছেন। আপনি আমাদের বড়ভাই। আপনার সমালোচনা করা মানে আপনার বিরুদ্ধে চলে গেছি, এটা না। এটা ক্রিকেটের ভালোর জন্যই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এ্যকশন নেন, যেন রিয়াসাদ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ গুলো কভার করতে পারে।
বিসিবি এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে এ ঘটনা বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিসিবি কি শুধুই প্রশাসনিক কারণে রিয়াসাদের অ্যাক্রিডিটেশন আটকে দিয়েছে, নাকি এটি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।