ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা নারী ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হস্তান্তরকৃতদের মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা ও পিরোজপুর জেলার নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১৫ জন রয়েছেন। তারা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মো. সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), যোগেন্দ্রনগরের ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালীর নাজমা বিবি (৩৩) ও তার তিন সন্তান মাহেরা আক্তার (৬), নাজমুল হাসান নাইম (১৬) ও মিনা (১৩), নওয়াবেঁকীর মাফুজা খাতুন (৩৪) ও তার সন্তান তানিয়া সুলতানা (১০) ও মাফুজ রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটার মর্জিনা বেগম (৪৪) ও তার মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০), এবং পিরোজপুরের রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি-৩৩ ব্যাটালিয়নের তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম এবং ভারতের বিএসএফ আমুদিয়া কোম্পানির কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলি উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবির বরাতে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে বিএসএফ তাদের আটক করে। দুইদিন হাকিমপুর ক্যাম্পে রাখার পর বৃহস্পতিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ গাজী ছাড়া বাকিদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ হেফাজতে থাকা আব্দুল্লাহ গাজী জানান, প্রায় ১৬ মাস আগে বৈকারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে তিনি। পরে কলকাতার নিউটাউন-রাজারহাট এলাকায় দিনমজুরির কাজ শুরু করেন। তার সঙ্গে থাকা বাকিরাও ওই এলাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশের কড়াকড়ি বেড়ে গেলে তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছায় বিএসএফ হাকিমপুর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন।
এসএস/টিকে