© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ন্যায়সঙ্গত ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া ও চীন ঐক্যবদ্ধ: পুতিন

শেয়ার করুন:
ন্যায়সঙ্গত ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া ও চীন ঐক্যবদ্ধ: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪২ এএম | ৩০ আগস্ট, ২০২৫
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ও চীন একটি ন্যায়সঙ্গত ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া ও চীন ঐক্যবদ্ধ। চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া একটি লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

চীনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন ও জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন পুতিন। ঠিক এর আগেই এমন একটা সাক্ষাৎকার দিলেন পুতিন।

চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া একটি লিখিত সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, মস্কো-বেইজিং অংশীদারিত্ব বৈশ্বিক মঞ্চে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, “আমরা বারবার দেখেছি, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের আলোচনা প্রমাণ করে যে, মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিস্তৃত অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং মৌলিক প্রশ্নগুলোতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত মিল রয়েছে।”

পুতিন বলেন, “আমরা ন্যায়ভিত্তিক, বহুপোলার বিশ্বব্যবস্থা গঠনের দৃষ্টিভঙ্গিতে ঐক্যবদ্ধ, যেখানে ‘গ্লোবাল ম্যাজরিটি’ বা বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ জাতির ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।”

তিনি এটাও বলেন, ইউরেশিয়ার দুই নেতৃস্থানীয় শক্তি হিসেবে “আমরা আমাদের মহাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী যে চ্যালেঞ্জ ও হুমকিগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রতি উদাসীন থাকতে পারি না।” এ বিষয়গুলোই রাশিয়া-চীনের রাজনৈতিক আলোচনায় নিয়মিত গুরুত্ব পায়।

পুতিন জানান, এই সফরটি শি জিনপিংয়ের মস্কো সফরের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা মে মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হয়েছিল।

পুতিন বলেন, “শি জিনপিং তার দেশের ইতিহাসকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করেন, তিনি একজন সত্যিকারের বিশ্বশক্তির নেতা, দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী, কৌশলী দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক দৃষ্টিপাত রয়েছে যার, এবং যিনি তার জাতীয় স্বার্থের প্রতি অটল।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত, কিভাবে একটি সম্মানজনক ও ন্যায্য বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।”

পুতিনের চীন সফর ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। সফরের শুরুতে তিনি তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন, এরপর বেইজিংয়ে বিজয় দিবস উদযাপন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে।

বেইজিংয়ে তিনি প্রথমে বিস্তৃত পরিসরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যেখানে প্রধান মন্ত্রিসভার সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পরে ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

আলোচনার মূল বিষয়গুলো হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও ইউক্রেন সংঘাত।

সফরের ফাঁকে পুতিনের ইরান, ভারত, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

এমআর/এসএন 

মন্তব্য করুন