ফেনেরবাচ চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার পরদিনই কোচ জোসে মরিনহোকে ছাঁটাই করেছে ক্লাবটি। তবে এই ছাঁটাই যে মরিনহোর জন্য একরকম আশীর্বাদ তা বলাই যায়। কারণ ছাঁটাই প্রতি ক্ষতিপূরণ বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ।
তুরস্কের সাংবাদিক ইয়াগিজ সাবুনকৌগ্লু জানিয়েছেন, ফেনেরবাচ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ মরিনহো পাবেন ৭৭ লাখ পাউন্ড।
একটি গণমাধ্যম অবশ্য বলছে, অঙ্কটা ৭৮ লাখ পাউন্ড।
মেইল অনলাইনের হিসাব অনুযায়ী, ফেনেরবাচেসহ বিভিন্ন ক্লাব থেকে আগেভাগে ছাঁটাই হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ মরিনহোর আয় দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা!
এখন পর্যন্ত ১০টি ক্লাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মরিনহো। এর মধ্যে সর্বশেষ চার ক্লাব থেকেই বিদায় নিয়েছেন ছাঁটাই হয়ে।
এরমধ্যে শুধু চেলসি থেকেই দু’দফায় ক্ষতিপূরণ বাবদ পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড।
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ছাঁটাই হয়ে পেয়েছিলেন ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় আরও বেশি- প্রায় ২ কোটি পাউন্ড।
টটেনহামে টিকতে পেরেছিলেন মাত্র ১৭ মাস।
অথচ তখনও চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে দুই বছর বাকি। মরিনহোকে সে যাত্রায় ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় কোটি পাউন্ড দিয়ে বিদায় করেছিল ক্লাবটি। সে তুলনায় রোমা থেকে ক্ষতিপূরণ কম পেয়েছিলেন মরিনহো- মাত্র ৩০ লাখ পাউন্ড। কারণ মৌসুম শেষে তার চুক্তি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
মরিনহোর ক্ষতিপূরণের অঙ্ক অন্যান্য কোচদের তুলনায় অনেক বেশি।
উদাহরণ হিসেবে নাপোলির কোচ আন্তোনিও কন্তে। কোচিং ক্যারিয়ারে আগেভাগে ছাঁটাই হয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ তিনি পেয়েছেন ৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড। এর মধ্যে শুধু ২০১৮ সালে চেলসি থেকেই পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ।
আরেক উদাহরণ ফ্রান্সের কোচ লঁরা ব্লাঁ। ২০১৭ সালে পিএসজি থেকে ছাঁটাই হয়ে তিনি পেয়েছিলেন ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড।
চারটি দেশে লিগজয়ী, দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এবং একমাত্র কোচ হিসেবে উয়েফার তিনটি ভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ী মরিনহো সর্বকালের সেরাদের একজন। বয়স ৬২ হলেও তার চাহিদা কমেনি ক্লাবগুলোর কাছে। ফেনেরবাচ অধ্যায় শেষ হলো ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে। এবার দেখার পালা ‘স্পেশাল ওয়ান’-কে কোথায় দেখা যায় নতুন রূপে একই ভূমিকায়।
ইএ/টিএ