সাইপ্রাসের ফুটবলে যেন নতুন এক রূপকথার জন্ম দিয়েছে পাফোস এফসি। মাত্র একযুগ আগে দ্বিতীয় ডিভিশনের দুটি ছোট ক্লাব-এইপি পাফো এবং এইকে কাউকলিয়া-এক হয়ে গড়ে তোলে এই দলটি। জন্মের পর থেকেই ক্লাবের প্রতীকে স্থান পেয়েছেন এক তরুণ বিপ্লবীর মুখ। তিনি ইভানগেলোস পাল্লিকারিদেস, যিনি ১৯ বছর বয়সে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গেরিলা বাহিনী ইওকার হয়ে লড়েছিলেন।
অস্ত্র বহনের দায়ে ধরা পড়ে মাত্র কিশোর বয়সেই ব্রিটিশদের হাতে ফাঁসি দেওয়া হয় তাকে। আন্তর্জাতিক চাপে নড়েনি ব্রিটিশরা। এরপর থেকেই পাল্লিকারিদেস হয়ে ওঠেন সাইপ্রাসের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। আজও তার মুখ শোভা পাচ্ছে পাফোস এফসির ক্রেস্টে।
পাফোসের ফুটবলযাত্রা যেন রূপকথার গল্প। ক্লাবটি প্রথম মৌসুমেই দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে উঠে আসে প্রথম ডিভিশনে। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেতে কিপ্রাস কাপ, যা ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম বড় শিরোপা। পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ মৌসুমে, তারা জিতে নেয় সাইপ্রিয়ট লিগ শিরোপা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাফোস জেলার কোনো দল দেশের সেরা ক্লাবের আসনে বসে।
এখানেই শেষ নয়। একই মৌসুমে দলটি অংশ নেয় উয়েফা কনফারেন্স লিগে এবং পৌঁছে যায় রাউন্ড অব ১৬ পর্যন্ত। আর এবারের ২০২৫-২৬ মৌসুমে আরও বড় মঞ্চে পা রাখছে দলটি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। যোগ্যতা অর্জনের পথে হারিয়েছে তেল আবিব, ডায়নামো কিয়েভ এবং রেড স্টার বেলগ্রেডের মতো শক্তিশালী ক্লাবগুলোকে।
এখন পাফোস এফসির প্রতিপক্ষ ইউরোপের সবচেয়ে বড় বড় দল। একই গ্রুপে তাদের লড়তে হবে বায়ার্ন মিউনিখ এবং চেলসির মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে। ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের ক্লাবের জন্য এটি এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। সাইপ্রাসের সমর্থকেরা এখন অপেক্ষা করছে নিজের মাঠে ইউরোপের সেরা তারকাদের খেলা দেখার জন্য।
টিকে/