ইংল্যান্ডের প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর একটি, শেফিল্ড ওয়েডনেসডে। ১৫৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, খেলোয়াড় সংকট, ট্রান্সফার ব্যান এবং ভেঙে পড়া স্টেডিয়াম-সব মিলিয়ে ক্লাবটির অবস্থা ছিল ধ্বংসস্তূপের মতো। কিন্তু এর মাঝেই এক অলৌকিক গল্প লিখে ফেলেছে ইয়র্কশায়ারের এই দল। কারাবাও কাপে প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী দল লিডস ইউনাইটেডকে হারিয়েছে তারা। নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে ৩-০ ব্যবধানে এই ঐতিহাসিক জয় আসে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের ঘরে।
ক্লাবটির বর্তমান অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে দলে নিবন্ধিত খেলোয়াড় আছে মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যেও সময়মতো বেতন না পাওয়ার কারণে অনেক খেলোয়াড় এবং ক্লাবকর্মী ক্লাব ছেড়ে গেছেন। এতটাই করুণ পরিস্থিতি যে খেলোয়াড়রা প্রীতি ম্যাচ খেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ক্লাবের বোর্ড নেই, নেই সিইও, নেই স্পোর্টিং ডিরেক্টর। এমনকি ক্লাবের অফিসও প্রায় ফাঁকা, কারণ সহকারীরাও চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, দুই মৌসুমের জন্য ক্লাবটি ট্রান্সফার ব্যানে রয়েছে। স্টেডিয়ামের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে, যার কারণে অনুশীলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া করতে হচ্ছে। সমর্থকেরাও ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিবাদে লিডস ম্যাচের গ্যালারি বর্জন করেন। তবে এর মাঝেও ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন সমর্থকেরা। তারা নিজেদের পকেট থেকে ২০ হাজার পাউন্ড তুলে খেলোয়াড়দের বেতন পরিশোধে সহায়তা করেছেন।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে নামতে হয় শেফিল্ড ওয়েডনেসডেকে। মূল একাদশে ছিলেন ৪ জন ২০ বছরের তরুণ এবং ৫ জন ১৮ বছরেরও কম বয়সী কিশোর। গড় বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। তবুও তারা বুক চিতিয়ে লড়েছেন। ম্যাচে সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে ওঠেন লোনে আসা গোলরক্ষক হরভাথ। কার্ডিফ সিটির চতুর্থ গোলরক্ষক ছিলেন তিনি, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে শেফিল্ডের প্রথম গোলরক্ষক চোটে পড়লে তড়িঘড়ি করে লোনে আনা হয় তাকে। এই হরভাথই পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৩টি সেভসহ মোট ৬টি সেভ দিয়ে দলকে নায়কোচিত জয় এনে দেন।
শেফিল্ড ওয়েডনেসডের এই জয় শুধু কারাবাও কাপের পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার গল্প নয়। এটি এক প্রতীক, যা জানিয়ে দেয় লড়াই থেমে নেই। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বিশ্বাস, ঐক্য এবং প্রতিজ্ঞা থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। সমর্থক ও খেলোয়াড়দের এই লড়াই নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইয়র্কশায়ারের গর্বকে।
টিকে/