© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এবার নেতানিয়াহুর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

শেয়ার করুন:
এবার নেতানিয়াহুর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৫ এএম | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল (অ্যানেক্স) করতে দেবেন না। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর অ্যানেক্স করতে দেব না। এটা ঘটবে না।’

সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, গাজা নিয়ে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি।

গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও পশ্চিম তীর দখল শেষ করতে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে একের পর এক পশ্চিমা দেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

তবে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থীরা মনে করছে, পশ্চিম তীর অ্যানেক্স করলে এ ধরনের স্বীকৃতি ঠেকানো সম্ভব হবে।

নেতানিয়াহুর সরকারে থাকা অতিরাষ্ট্রবাদী মন্ত্রীরা বারবার পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণভাবে অ্যানেক্স করার দাবি তুলছেন।

যুক্তরাজ্য ও জার্মানি ইসরায়েলকে এ ধরনের পদক্ষেপ না নিতে সতর্ক করেছে। সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, পশ্চিম তীর অ্যানেক্স করা হবে নৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি নেতানিয়াহুসহ অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা গাজার বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি এবং হয়তো শান্তিরও।”

সেই দিনই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। সোমবার ফ্রান্স এ পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

৮৯ বছর বয়সী আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র নিউইয়র্কে সরাসরি উপস্থিত হতে অনুমতি দেয়নি।

তিনি সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। গত রোববার কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগাল স্বীকৃতি দেওয়ার পর ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, সান মারিনো, অ্যান্ডোরা ও ডেনমার্কও এ তালিকায় যুক্ত হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিপক্ষে। কারণ তাদের মতে, এটি হামাসকে পুরস্কৃত করার সামিল।

আব্বাস বলেন, “শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রত্যাহারের পর গাজায় পূর্ণ দায়িত্ব নিতে এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রস্তুত।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। তারা তাকে সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি পশ্চিম তীর অ্যানেক্স করে তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পশ্চিম তীরে অ্যানেক্সেশনের ঝুঁকি ও বিপদ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন।”

বুধবার সকালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও প্রতিবেশী জর্ডানের মধ্যকার একমাত্র ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। এতে দুই মিলিয়নের বেশি ফিলিস্তিনির বাইরের বিশ্বে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

এই পদক্ষেপ আসে কয়েকদিন পর, যখন ওই ক্রসিংয়ের কাছে এক জর্ডানি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। পরে ওই বন্দুকধারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

এদিকে বুধবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বেশিরভাগ নিহত হন গাজা সিটিতে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস নেতৃত্বাধীন আক্রমণে প্রায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, তখন থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫,৪১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ হাজারেরও বেশি শিশু।

গত আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থা আইপিসি জানায়, গাজায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ “দুর্ভিক্ষ, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির” মধ্যে রয়েছে। যদিও নেতানিয়াহু বারবার গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

একটি জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি “বিকৃত ও মিথ্যা”।

যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

আরও দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা আনা ও সরকারের চরমপন্থী মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করেছে। এগুলো কার্যকর হলে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইইউ’র সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হবে।

এ সপ্তাহে মাইক্রোসফট ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের সঙ্গে কিছু সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, গাজায় গণ-নজরদারিতে মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

তবুও নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে আরও বেশি আত্মনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

এমকে/এসএন

মন্তব্য করুন