সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে গণমানুষের যে ভালোবাসা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে। বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এর আগে ছারছীনা দরবার শরিফের পীর মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে গেছেন, সেই পতাকা খালেদা জিয়া বহন করেছেন। একইভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সেই পতাকা তুলে ধরে তারেক রহমান জনগণকে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জনগণকে সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন– এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, নীতির প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খালেদা জিয়া কখনও আপস করেননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন। জীবনের শেষ সময়ে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসাই সাধারণ মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক সেই সময় তাঁর প্রয়াণে মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে। এ কারণেই বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশনেত্রীর জানাজায় অংশ নিয়েছেন, তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং চোখের পানি ফেলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নিঃসন্দেহে খালেদা জিয়া একটি শক্ত অবস্থান রেখে গেছেন। তাঁর পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মীরও দায়িত্ব রয়েছে। খালেদা জিয়ার কুলখানি প্রসঙ্গে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে আলোচনা করে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
আইকে/টিএ