© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি, রাশেদ খান বললেন ‘সঠিক’

শেয়ার করুন:
চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি, রাশেদ খান বললেন ‘সঠিক’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৩ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে রাশেদ খান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যা বলেছেন তা অসত্য নয়, সত্য।

রাশেদ খান বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি আন্তরিক মানুষ। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, অসত্য বলেননি, চাপে ছিলেন।

যে ঘটনাগুলো তিনি বর্ণনা করেছেন, এগুলো অসত্য নয়, এগুলো সত্য। আমি বিভিন্ন সময় এভাবে কথাবার্তা বলেছি। হয়তো আমার কথাবার্তা রাষ্ট্রপতি খেয়াল করেছেন, তার ভালো লেগেছে। সরকার তো তাকে চাপের মধ্যে রেখেছে, এটা তো সত্য।

তিনি আরো বলেছেন, “বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর জন্য বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছিল, তবে আমি ওই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অনেকগুলো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছি। বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। নুরুল হক নুরের কাছে একটি অনুষ্ঠানে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে নুরুল হক নুর গিয়েছিলেন, আমি যাইনি।

তখন তিনি নুরুল হক নুরের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাশেদ আসেনি?’—এটা একটি ঘটনা।”

আরেকটি ঘটনা হলো, সবার স্মরণসভায় আমরা যখন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাই, তখন তিনি সবার সামনে আমাকে ডেকে বলেন, ‘কী খবর রাশেদ?’ অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু আমার নামটাই তিনি আলাদা করে ডাকলেন। তিনি যেহেতু এভাবে খোঁজখবর রাখেন, আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি আমাকে ভালোবাসেন।

রাশেদ খান বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে সরানোর আন্দোলনের সময় আমি বলেছিলাম, যার হাতে আপনি শপথ নিলেন, শপথ নেওয়ার আগে বলতেন তাকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু শপথ নিয়ে ফেলেছেন, ক্ষমতাকে বৈধ করে ফেলেছেন। এখন বলছেন তাকে ভালো লাগে না, এটা তো হয় না। আপনি যে সংবিধান মেনে শপথ নিয়েছেন, সেই সংবিধানও মানতে হবে। তাকে বাদ দিতে পারবেন না, সংবিধানকেও বাদ দিতে পারবেন না। যদি বিপ্লবী সরকার করতেন, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতো। ভুল তো আপনারাই করেছেন, সেই ভুলের খেসারত রাষ্ট্রপতি দেবেন না, সংবিধানও দেবে না।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক হবেই। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে নিয়ে খুব বেশি বিতর্কের সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি ভেতরের অনেক কিছু জানি। তিনি কখনোই নিজ থেকে কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেননি। এক ধরনের অসহায়ত্বের মধ্যে ছিলেন, এটা সত্য। তাকে দিয়ে কিছু করতে দেওয়া হয়নি, এটাও সত্য।’

রাশেদ খান বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো, তিনি তিনজন ব্যক্তিকে তিনটি সরকারে শপথ পড়িয়েছেন। একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় কিছু আর কী হতে পারে? তার যে অভিযোগ-অনুযোগ আছে যেহেতু তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, পরে চাকরি করেছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তারপরও গণ-অভ্যুত্থানের পর যে শূন্যতার মধ্যে তিনি দায়িত্ব সামলেছেন, কিংবা কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেননি, এ জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলো অসত্য নয়। ঘটনাগুলো তো ঘটেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে চাপের মধ্যে রেখেছিল, এটাও সত্য। সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছেন। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। বাংলাদেশের পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে, যাতে আগামীতে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, যে পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের বিদায় ঘটে এবং রাষ্ট্রপতি চাপে থাকেন।’



ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন