বিশ্বকাপের আগে বিপাকে আর্জেন্টিনা। কর ফাঁকি দেয়া, ম্যাচ গড়াপেটা, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বেশ কিছু অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনোর বিরুদ্ধ্বে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধ্বে বুয়েন্স আয়ার্সের শহরতলির একটি বাড়িতে অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা।
বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি আর মাত্র পাঁচ মাস। প্রস্তুতিতে মনোযোগী বিশ্বকাপজয়ী দলটা। বিশ্ব আসরে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার আছে গুরুত্বপূর্ণ আরেক মিশন। আগামী মার্চে ফিনালিসিমায় স্পেনের বিপক্ষে লড়বে আলবিসেলেস্তেরা। তবে, বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনের আগে বড় বিপাকে আর্জেন্টিনা।
কর ফাঁকি, অর্থ জালিয়াতি সহ আরও বেশ কিছু অভিযোগে পুলিশি তদন্তে আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকজন বড় কর্তা। ২০২৪ এর মার্চে সাবেক ফুটবলার কার্লোস তেভেজ সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। বুয়েনস আয়ার্সের শহরতলি পিলার অঞ্চলের একটি বাড়িতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তার সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়।
শুধু যাতায়াতই নয়, সেই বাড়িতে নাকি টাকা ভর্তি একটা ব্যাগও মাটিতে পুতে রাখা হয় এমন অভিযোগ তোলেন তেভেজ। শহরতলির সেই বাড়িতে অবৈধভাবে একটি পুরনো মূল্যবান গাড়িও লুকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন সাবেক স্ট্রাইকার। যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক দল কোয়ালিশন সিভিক পুলিশি তদন্তের দাবি জানায়।
এরপরই শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার পর বেরিয়ে আসে অবাক করা সব তথ্য। শহরতলির বাড়িটিই এএফএর আর্থিক দুর্নীতির কেন্দ্র বলে জানায় পুলিশ। এই দুর্নীতিতে শুধু এএফএ-র সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাবও। অর্থ জালিয়াতি, ম্যাচ গড়াপেটা, জালিয়াতি করা টাকা ভাগ করা কিংবা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয় সেখানে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী একাধিক সংস্থার দফতরেও তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু নথি। এরপর তল্লাসি চালানো হয় শহরতলির সেই বাড়িটিতেও। সেখানে একটি হেলিপোর্ট, ৫৪টি গাড়ির সন্ধান মেলে। দেশটির একটি রাজনৈতিক দলের দাবি, এই বেআইনি সম্পত্তি এএফএ সভাপতি তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ পাবলো টোভিগিনোর অর্থ-পাচার কারবারের অংশ।
মূলত তাপিয়া ও তার সহযোগিদের ১৩ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির কারণে কর ফাঁকি দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এএফএর বিরুদ্ধ্বে ওঠে এমন অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এএফএর পক্ষ থেকে।
এএফএ এবং সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে আর্জেন্টিনার প্রশাসনও। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মেসিরা যখন দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন, সে সময় কর্তাদের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগে ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরাও। আগামী বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে এএফএ কর্তাদের দুর্নীতির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ।
এমআই/টিকে