নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪০ পিএম | ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুল বারী ও এস.এম রাশেদুল আলমকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়।
তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে ব্যাপারে আগামী ১১ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক এবং সিনিয়র সিভিল জজ মো. ফয়সাল আহমেদ লিখিতভাবে এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি মো. ফয়সাল আহমেদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কারণ দার্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মো. আব্দুল বারী বিএনপি মনোনীত জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে (ফেসবুক পেজ সবার আগে বাংলাদেশ, হৃদয়ে বারী স্যার ও Hanif Mohammad) দেখা যায় যে, আপনার সমর্থকরা গত ২৩ ডিসেম্বর, ২৮ ডিসেম্বর ও ৪ জানুয়ারিসহ বিভিন্ন তারিখে জয়পুরহাট-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এবং হাট বাজারে আপনার ছবি সম্বলিত ধানের শীষ মার্কার হ্যান্ড বিল নিয়ে গনসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা করছেন।’
অপরদিকে আরেকটি নোটিশে বলা হয়েছে, ‘এস.এম রাশেদুল আলম জামায়াতে ইসলামী দলের মনোনীত জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী। আপনার ভেরিফাইড ফেসবুক আই.ডি (Rashedul Alom Sabuj)-তে গত ২৭ ডিসেম্বর, ১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারিসহ বিভিন্ন তারিখে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে আপনার ছবি সম্বলিত পোস্টার নির্বাচনি প্রচারণার জন্য পোস্ট করা হয়েছে।’
এই দুই দলীয় প্রার্থীদের এমন কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৮ লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় কেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না কিংবা অপরাধ আমলে গ্রহণ পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। তা স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে প্রার্থীদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। এর ব্যর্থতায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের বিরুদ্ধে ৫-৯ জানুয়ারি আপিল করতে পারবেন এবং ১০-১৮ জানুয়ারি তা নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। প্রতীক পাওয়ার পরই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।
আরআই/টিকে