পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হাড় কাঁপানো শীত, তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। মঙ্গলবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই পুরো জেলা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। দুপুরের পর কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও সন্ধ্যার পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত আবারও সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।

টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় সকালবেলা কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেকেই কাজে যেতে দেরি করছেন। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

সদর উপজেলার ফুটকিবাড়ি এলাকার দিনমজুর আনিছুর রহমান বলেন, এত শীতে সকালে কাজে বের হওয়া খুব কষ্টকর। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ না করলে সংসার চলে না, আবার এই শীতে কাজ করাও কঠিন।

ধাক্কামারা এলাকার ভ্যানচালক জফির আলী বলেন, কুয়াশার কারণে সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না। রাস্তায় বের হলে খুব ভয় লাগে। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

কেএন/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
জয়পুরহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ গেল যুবদলকর্মীর Jan 09, 2026
img
টাক পড়া কি হৃদরোগের পূর্বাভাস? বিজ্ঞান কী বলছে? Jan 09, 2026
img
নিউজিল্যান্ডের প্রত্যন্ত সমুদ্র সৈকতে আটকা পড়েছে বহু তিমি, মৃত ৬ Jan 09, 2026
img
মার্কিন সামরিক বাজেটে বড় লাফ ডোনাল্ড ট্রাম্পের Jan 09, 2026
img
পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত Jan 09, 2026
img
কোন ৫ টি কাজ প্রতিদিন করেন সফল মানুষেরা? Jan 09, 2026
img
‘সবাই ক্লাসিকো চায়,’ ফাইনালের প্রতিপক্ষ প্রসঙ্গে বার্সা ডিফেন্ডার Jan 09, 2026
img
বলিউডের ফারহান আখতারের জন্মদিন আজ Jan 09, 2026
img
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল আবেদনের শেষ দিন আজ Jan 09, 2026
img
সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে তারেক রহমানের বিকল্প নেই: দুলু Jan 09, 2026
img
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সব শ্রেণির অত্যাবশ্যকীয় সেবার আওতার মেয়াদ বাড়ল Jan 09, 2026
img
সিরিজের ২য় টি-টোয়েন্টিতে আজ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান Jan 09, 2026
img
চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, তাপমাত্রা নেমেছে ৮.৫ ডিগ্রিতে Jan 09, 2026
img
ঘন কুয়াশায় নদী অববাহিকায় দৃষ্টিসীমা কমার সতর্কতা Jan 09, 2026
img
বিয়ের প্রায় এক বছর হতে চলল, এখনও আমরা মধুচন্দ্রিমায় যেতে পারিনি: শ্বেতা ভট্টাচার্য Jan 09, 2026
img
১৫ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক Jan 09, 2026
img
রাস্তায় বিভিন্ন রংয়ের দাগ থাকার মানে কি? Jan 09, 2026
img
নাসিরকে ১৯ তম ওভারে বল দেওয়া মিঠুনের ‘জীবনের অন্যতম বড় ভুল’ Jan 09, 2026
img
রাতের আঁধারে বিএসএফের সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাঁধা Jan 09, 2026
img

ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ Jan 09, 2026