‘প্রয়োজনে খামেনিকে হত্যা করতে পারেন ট্রাম্প’, মার্কিন সিনেটরের হুঁশিয়ারি

ইরানের জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, ‘আয়াতুল্লাহদের বলছি—আপনাদের বুঝতে হবে, আপনারা যদি ভালো জীবনের দাবিতে রাস্তায় নামা নিজ জনগণকে হত্যা করতে থাকেন, তাহলে ডনাল্ড জে ট্রাম্প আপনাদের হত্যা করবেন।’

গ্রাহাম আরও বলেন, ইরানে পরিবর্তন আসছে এবং এই আন্দোলন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বড় মোড় নিতে পারে।

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ। এই সুযোগে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প খামেনি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করা হলে শক্তিশালি প্রতিক্রিয়া দেখাবে ওয়াশিংটন। এরমধ্যেই, ইরানে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রা সংকট ঘিরে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই বলেছেন, যারা রাস্তায় নেমে দাঙ্গায় অংশ নিচ্ছে, নেতৃত্ব দিচ্ছে বা সহায়তা করছে তাদের কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্র এসব কার্যকলাপ সহ্য করবে না।

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বুধবার এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান। এসময় তিনি আরও জোরালো আন্দোলনের ডাক দেন। রেজা পাহলভি বলেন, ইরানের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সরাসরি আমার এ বার্তা। আপনারা যারা ইরানি জাতিকে রক্ষা করার জন্য সামরিক পোশাক পরেছেন এবং এখন এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা ইতিহাসের কোন পাশে দাঁড়াবেন? অপরাধীদের পাশে, নাকি জনগণের পাশে?

ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী আর সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।

ইউটি/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিয়ের প্রায় এক বছর হতে চলল, এখনও আমরা মধুচন্দ্রিমায় যেতে পারিনি: শ্বেতা ভট্টাচার্য Jan 09, 2026
img
১৫ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক Jan 09, 2026
img
রাস্তায় বিভিন্ন রংয়ের দাগ থাকার মানে কি? Jan 09, 2026
img
নাসিরকে ১৯ তম ওভারে বল দেওয়া মিঠুনের ‘জীবনের অন্যতম বড় ভুল’ Jan 09, 2026
img
রাতের আঁধারে বিএসএফের সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাঁধা Jan 09, 2026
img

ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ Jan 09, 2026
img
বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর দিল্লি, ১৬তম অবস্থানে রাজধানী ঢাকা Jan 09, 2026
img
নাসিরের এক ওভারে ২৮ রান নিয়ে মঈন আলির মন্তব্য Jan 09, 2026
img
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ Jan 09, 2026
img
আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প Jan 09, 2026
img
কুড়িগ্রামে হাড়কাঁপানো শীত, স্থবির জনজীবন Jan 09, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রকে ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর প্রস্তাব খলিলুর রহমানের Jan 09, 2026
img
ইতালিতে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে Jan 09, 2026
img
‘গুলি করব আগে, পরে প্রশ্ন’, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের Jan 09, 2026
img
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আজ, মানতে হবে ৫ জরুরি নির্দেশনা Jan 09, 2026
img
কাজল-টুইঙ্কলের শোয়ের বিতর্কে মুখ খুললেন গৌতমী কাপুর Jan 09, 2026
img
ঢাকায় শীতে তাপমাত্রা নেমেছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি Jan 09, 2026
img
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ১৫ Jan 09, 2026
img
বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ এখন কর্মসংস্থান সংকটে! Jan 09, 2026
img
নতুন অ্যালবাম ‘মহাশ্মশান’ নিয়ে ফিরল সোনার বাংলা সার্কাস Jan 09, 2026