বিবিসি ফার্সির সম্পাদকের মত

ইরান এখন দুর্বল, বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে হয়ে গেছে নড়েবড়ে

ইরানে প্রায় সময়ই বিক্ষোভ হয়, তবে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় চলমান বিক্ষোভটি বেশ গুরুতর বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ফার্সি ভাষার সম্পাদক আমির আজিমি।

তিনি বলেছেন, বিক্ষোভের শুরুতেই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বল প্রয়োগ করে এটি দমনের চেষ্টা করেছে। এতে করে এখনই অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এখন সব নজর হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। কারণ তিনি হুমকি দিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ইরান সরকার হত্যা করা শুরু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এতে হস্তক্ষেপ করবে।

এরমধ্যে ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তারা ইরানে শক্তিশালী হামলা চালাবেন।

ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণেই মূলত বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হওয়ায় অবদান রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা।

বিবিসি ফার্সির সম্পাদক বলেছেন, অনেক ইরানি মনে করেন মার্কিনিদের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরাসরি লাভবান হচ্ছে তাদের কিছু নেতা। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যবসা করে, তেল বিক্রি করে এবং অর্থ পাচার করে তারা নিজেদের পকেট ভারী করছেন।

এরমধ্যে গত বছরের জুনে দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে ১২দিনের যুদ্ধে লিপ্ত হয় ইরান। যা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমির আজিমি। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। তারা সরাসরি ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

আমির আজিমি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার কাছের লোকের বলে আসছেন তাদের দীর্ঘকালীন নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর এবং পারমাণবিক ক্ষেত্রে ব্যাপক খরচ করতে হবে। কিন্তু তাদের এসব কথা এখন ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে আর খুব বেশি মূল্যবান মনে হচ্ছে না।

ইরান সরকার আগে বলতে তাদের নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য খরচ করতে হবে। এবং তারা বলত এসব খরচের কারণেই ইরান নিরাপদ রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর এসব কথা আর টিকছে না।
সূত্র: বিবিসি

পিএ/টিএ 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল Jan 09, 2026
img
প্রশাসন একপেশে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: জামায়াত Jan 09, 2026
img
জনপ্রিয় অভিনেতার রহস্যজনক মৃত্যু, সামনে এলো নতুন তথ্য Jan 09, 2026
img
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকার চুক্তি, আটক ১৮ পরীক্ষার্থী Jan 09, 2026
img
‘মা ইন্তি বাঙারাম’র টিজারে সামান্থার নতুন রূপ Jan 09, 2026
img
নোবেল বিজয়ী মালালার ৩ দেশকে ৩ লাখ ডলার অনুদান Jan 09, 2026
img

পোপ লিওর কড়া বার্তা

‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে’ Jan 09, 2026
img
এক ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সব সরকারি সেবা: ফয়েজ তৈয়্যব Jan 09, 2026
img
‘যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাবে না বলার অধিকার ইউরোপের আছে’ Jan 09, 2026
img
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ টিমের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৈঠক Jan 09, 2026
img
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত Jan 09, 2026
img
গোপালগঞ্জে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কারাদণ্ড ও বহিষ্কার ৩ Jan 09, 2026
img
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মশাল তারেক রহমানের হাতে দিয়ে গেছেন : আমীর খসরু Jan 09, 2026
img
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দিনাজপুরে ডিভাইসসহ আটক ১৬ Jan 09, 2026
img
বিশ্বকাপের সময় ক্রিকেটারদেরও অভিনয় করতে হয়: শান্ত Jan 09, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Jan 09, 2026
img
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকে নোয়াখালী অলআউট Jan 09, 2026
img
ভোলা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীর আবেদন Jan 09, 2026
img
চুয়াডাঙ্গায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ২ জন আটক Jan 09, 2026
img
গাইবান্ধায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ৪৯ Jan 09, 2026