শীতকালে বাজারে গেলে যে সবজিটি সবার আগে চোখে পড়ে তার নাম মুলা। সালাদ, তরকারি বা ভর্তা, বিভিন্নভাবে এই সবজি খাওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই গ্যাস, অম্বল বা পেটফাঁপার ভয়ে মুলা থেকে দূরে থাকেন। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এই সবজি এড়িয়ে চলেন তারা।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়মে মুলা খেলে গ্যাস হয় না, বরং শরীর পায় একাধিক উপকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুলাতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এগুলো হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করে এবং শীতকালে ঠাণ্ডা লাগা-কাশির সমস্যা কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি মুলা লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
মুলা খেলে গ্যাস হয় কেন
চিকিৎসকদের মতে, খুব কাঁচা মুলা খেলে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলেই এই সমস্যা বেশি হয়। মুলাতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ও বেশি ফাইবার অনেক সময় হজম ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলেই পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। তাই শীতে মুলা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
একেবারে কাঁচা না খেয়ে হালকা রান্না করে খাওয়া ভালো।
ভাপা, সিদ্ধ বা হালকা তরকারি করলে মুলা সহজে হজম হয়। রান্নার সময় জিরা, আদা, হিং বা গোলমরিচ ব্যবহার করলে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমে। খালি পেটে মুলা না খাওয়াই ভালো।
দুপুরের খাবারের সঙ্গে বা অন্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে সমস্যা কম হয়। মুলার সালাদ খেলে তাতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ যোগ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া মুলা পাতা ফেলে না দিয়ে শাক হিসেবে খেলে শরীর আরো বেশি উপকার পায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। একসঙ্গে অনেকটা মুলা খেলে সমস্যা হতেই পারে। তাই অল্প পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সবমিলিয়ে বলা যায়, শীতকালে মুলা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। শুধু সঠিক নিয়মে খেলে গ্যাস বা পেট ফোলার ভয় থাকে না। তাই এই শীতে নির্ভয়ে মুলাকে রাখুন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।
এমআই/টিকে