বাংলাদেশ বেতারের সেতারবাদক জাহাঙ্গীর আলম খান ওরফে তানসেন খান (৬৫) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বড় ভাই ছমির উদ্দিন খাঁর প্রপৌত্র ও লাখু খানের সন্তান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জগৎখ্যাত ওস্তাদ পরিবারে তার জন্ম। তাঁর মৃত্যুতে নবীনগরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি দীর্ঘদিন নবীনগরের শিবপুর গ্রামে ওস্তাদ পরিবারের অন্যতম বংশধর ফকির তাপস আপ্তাব উদ্দিন খাঁর (আলাউদ্দিন খাঁর বড় ভাই) মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আপ্তাব উদ্দিন খাঁ মাজার কমিটির সভাপতি, সুরসাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর পুত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তানসেন আমার নাতি। সে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ স্নেহভাজন ছিল। আমাদের গ্রামের বাড়ি শিবপুরে যতবারই গিয়েছি এই নাতি তানসেন আমার নিত্যসঙ্গী হিসেবে থাকত। দেশের একজন গুণী সেতারশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ বেতারে দীর্ঘদিন সে সুনামের সঙ্গে কাজ করে সঙ্গীতাঙ্গনে অবদান রেখে গেছে।
আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।'
তিনি জানান, ঢাকা থেকে মরহুম তানসেন খানের লাশ আজ শনিবার নবীনগরের শিবপুরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে এবং শিবপুরেই তার বাবা লাখু খানের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে শিবপুর সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি সংসদ, নবীনগরের কথা পরিবার, অংকুর শিশু-কিশোর সংগঠন, শিল্পাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুরতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।
এমকে/টিএ