ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে প্যারাগুয়েতে ঢোকায় ২০২০ সালের মার্চে রোনালদিনহোকে আটক করেছিল সে দেশের পুলিশ। ৪০ বছর বয়সী এ ব্রাজিলিয়ান তারকা ও তাঁর ভাই জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। যে কারণে প্যারাগুয়ের আদালত তাদের ছয় মাস জেলে থাকার শাস্তি দেয়। তবে ৩২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জামিন পান ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনহো।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কারাগারে কাটানো সেই সময় নিয়ে মুখ খুললেন রোনালদিনহো। কারাগারে কাটানোর সময় যেভাবে কাটতো এবং সে সময় কিভাবে ফুটবল খেলতেন এবং ভক্তদের স্বাক্ষর দিতেন সে সব নিয়ে এক স্বাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেন ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার।
জেলে ভয়ংকর কিছুই আশা করছিলেন রোনালদিনহো। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে অবাক করে দিয়ে আয়োজন করা হয় ফুটবল ম্যাচের। রোনাদিনহোর ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম তারা আমাকে মারবে এবং জেলখানায় সাধারণত যেসব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে, সেগুলো করবে। কিন্তু এর বদলে, তারা প্রহরীদের ডেকে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করল এবং আমাকে কিছু কৌশল দেখাতে বলল যেন সবাই বিনোদন পায়।
ভয়ংকর কোনো অভিজ্ঞতা নয় বরং ওই সময়টা দারুণই কেটেছিল বললেন রোনালদিনহো, ‘গ্রেফতারের পর পরের সকালে আমাদের পাঁচজনের টিম নিয়ে খেলার জন্য বের করা হয়। প্রহরীরা এবং কিছু কারারক্ষী কর্মকর্তা ক্যামেরা নিয়ে খেলা দেখার জন্য এসেছিলেন; দিনটা সবার জন্য আনন্দময় হয়ে ওঠল। আমি বলতে পারি, সেখানে কাটানো সময়টা ভালোই ছিল।’
প্যারাগুয়ের একটি ক্যাসিনো মালিক নেলসন বেলোত্তির আমন্ত্রণে রোনালদিনহো ও তার ভাই দেশটিতে যান। একটি দাতব্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার কাছে ব্রাজিলের পাসপোর্টও ছিল না। বছর দুই আগে তার পাসপোর্ট জব্দ করে ব্রাজিলিয়ান সরকার। লেক গুয়াইবাতে অনুমোদন না নিয়ে একটি চিনির কল বানানোয় তাকে ২৩ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। জরিমানার অর্থ দিতে না পারায় পাসপোর্ট জব্দ করা হয় রোনালদিনহোর।
টিজে/টিএ