স্থানীয়দের হাতে অপহরণ ৩ রোহিঙ্গা, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

এতদিন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবার স্থানীয়রাই রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। এসময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অপহরণকারী চক্রের এক সদস্য। উদ্ধার হয়েছেন অপহরণের শিকার তিন রোহিঙ্গা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানের ছড়া নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার অপহরণকারী চক্রের সদস্যের নাম মোহাম্মদ পারভেজ বাবু। সে রামু সরকারি কলেজের ছাত্র। পারভেজ রামু উপজেলা সদরের লম্বরী পাড়ার বাসিন্দা।

উদ্ধার রোহিঙ্গারা হলেন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ফয়েজুল্লাহ, থাইনখালী ১৩ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা রহিমুল্লাহ ও থাইনখালী ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা জালাল উদ্দীন।

রামু থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদুল আলম রাতে দেশের একটি গণমাধ্যমকে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, কলেজছাত্র পারভেজ গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপহরণকারীরা তিন রোহিঙ্গা থেকে বিকাশে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নিয়েছে।

উদ্ধার রোহিঙ্গারা রামু থানার পুলিশকে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন, তারা শনিবার সকালে গ্রামীণ এলাকায় দিনমজুরি কাজের সন্ধানে ক্যাম্প থেকে বেরিয়েছিলেন। পরে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার পানের ছড়া নামক স্থানে সংঘবদ্ধ ৪ অপহরণকারী তাদেরকে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ধরে পাশের পাহাড়ে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

অপহরণকারী চক্র রোহিঙ্গা তিনজনের কাছে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে তাদের পরিবারের কাছে ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে। রোহিঙ্গাদের পরিবার ধার করে বিকাশে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা দেওয়ার পরও অপহরণকারীরা তাদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপহৃত রোহিঙ্গাদের পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়।

পরে সন্ধ্যায় পানের ছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। অপর তিন অপহরণকারী এরশাদ, লেবু ও জালাল পালিয়ে গেছে। তারা তিনজনই স্থানীয় পানেরছড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার ব্যাপারে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টিজে/টিএ  

Share this news on:

সর্বশেষ

img
প্রতিশ্রুতির চেয়েও পাঁচগুণ বেশি কাজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি: সাদিক কায়েম Jan 11, 2026
img
জেতার জন্য সবাইকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান Jan 11, 2026
img
সাবেক আইনমন্ত্রী ও তার বান্ধবীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা Jan 11, 2026
img
গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে খুশির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা! Jan 11, 2026
img
চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ল ৬ বসতঘর Jan 11, 2026
img
প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি আখতার হোসেনের Jan 11, 2026
img
দুই দফা ফোনালাপের পর জেদ্দায় তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের সাক্ষাৎ Jan 11, 2026
img
ফোনালাপের পর জেদ্দায় সরাসরি বৈঠকে বসেছেন তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দার Jan 11, 2026
img
বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলম্বিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর Jan 11, 2026
img

স্প্যানিশ সুপার কোপা

এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়াল-বার্সেলোনার মাঝে কে ফেবারিট? Jan 11, 2026
img
প্রয়াত ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ তারকা কাজ করেছিলেন সালমানের সঙ্গে Jan 11, 2026
img
ব্যক্তিগত কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন দুলুর স্ত্রী ছবি Jan 11, 2026
img
ইরানে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’ দেখতে চায় যুক্তরাজ্য Jan 11, 2026
img
নির্বাচন স্থগিত, হতাশ প্রার্থী ও ভোটাররা Jan 11, 2026
img
রাজধানীর কাকরাইলে চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন Jan 11, 2026
img
দাঁড়িপাল্লা-মাহফিল নিয়ে দেওয়া জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল Jan 11, 2026
img
ছবি মুক্তির আগেই বরুণের বিশাল প্রাপ্তি! Jan 11, 2026
img
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্য তালিকা চাইল ইসি Jan 11, 2026
img
কেয়া- খায়রুলের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জল্পনা Jan 11, 2026
img
মেসির সঙ্গে একান্ত বৈঠকে কী কথা হলো স্ক্যালোনির? Jan 11, 2026