ভয়াবহ শক্তিশালী ঝড় ‘স্টর্ম গরেট্টি’-র (Storm Goretti) প্রলয়ংকরী তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ব্রিটেনের বিস্তীর্ণ জনপদ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝড়ের প্রলয়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্ধকারে ডুবে গেছে দেশটির অন্তত দেড় লাখ পরিবার।
শুক্রবার সকাল থেকেই মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল, ডেভন এবং আইলস অফ সিলি এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে।
সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দক্ষিণ ওয়েলস এবং মিডল্যান্ডসের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১১ মাইল। ঝড়ো হাওয়ায় শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে, যার ফলে বহু গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। কর্নওয়াল এলাকায় ঝড়ের সময় একটি চলন্ত ক্যারাভানের ওপর বিশাল গাছ উপড়ে পড়লে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।
এ ছাড়া ফালমাউথ এলাকায় একটি বাসভবনের ওপর গাছ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে।
ন্যাশনাল গ্রিডের তথ্যমতে, ঝড়ের আঘাতে সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কর্নওয়াল, সাউথ ওয়েলস এবং মিডল্যান্ডস এলাকায় একপর্যায়ে ১ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এখনো হাজার হাজার পরিবার অন্ধকারে রাত কাটাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১১ হাজার পরিবার তীব্র পানি সংকটে পড়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের অন্তত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রেললাইনে গাছ পড়ে থাকায় গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়েসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়ের মূল তাণ্ডব শুক্রবার পার হলেও এর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে তুষারপাত ও হাড় কাঁপানো শীত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশ দিয়ে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।