লবণ মানেই ক্ষতি এমন ধারণা বহুদিন ধরেই স্বাস্থ্য চর্চায় দাপট দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ডায়েট চার্ট সবখানেই লবণ কমানোর উপদেশ। কিন্তু সত্যিই কি লবণ সবার জন্য সমানভাবে ক্ষতিকর? হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দিমিত্রি ইয়ারানোভ বলছেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। মানুষের শরীর ও শারীরবৃত্তীয় গঠন অনুযায়ী লবণের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ডা. ইয়ারানোসোডিয়াম জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নার্ভ, মাংসপেশি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সবকিছুর সঙ্গেই এটি জড়িত। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় লবণ আর ‘মসলা’ থাকে না, হয়ে ওঠে রোগের জ্বালানি। তাই কারা লবণ খেতে পারবেন আর কারা পারবেন না তা জানা জরুরি।
যেসব অবস্থায় লবণ এড়িয়ে চলা জরুরি
১. হার্ট ফেইলিউর রোগীরা
হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি জমিয়ে ফেলে। এতে বুক ও ফুসফুসে জট তৈরি হয়, শ্বাসকষ্ট বাড়ে এবং বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ায়।
২. রেজিস্ট্যান্ট হাইপারটেনশন
যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন থেকে চারটি ওষুধ লাগে, তাদের জন্য লবণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। ডা. ইয়ারানোভ বলেন,
যদি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এত ওষুধ লাগে, তবে লবণ নিরপেক্ষ নয় এটা নীরব শত্রু।
৩. দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ
ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্তদের শরীর অতিরিক্ত সোডিয়াম সামলাতে পারে না। এতে কিডনির অবনতি দ্রুত হয় এবং শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. লিভার সিরোসিস ও পোর্টাল হাইপারটেনশন
লিভার সিরোসিসে অতিরিক্ত লবণ পেটে পানি জমা (অ্যাসাইটিস) ও পোর্টাল হাইপারটেনশন আরও বাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের মন্তব্য, অ্যাসাইটিস আপনার স্বাদের কথা শোনে না।
৫. বয়সজনিত রক্তনালির শক্ত ভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধমনিগুলো সোডিয়াম সহ্য করার ক্ষমতা হারায়। ফলে আগে যেটুকু লবণ ক্ষতি করত না, বয়স বাড়ার পর সেটিই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডা. ইয়ারানোভের ভাষায়, ২৫ বছর বয়সের মতো করে আপনার ধমনিগুলো আর সোডিয়াম সামলায় না।
চিকিৎসকেরা বলছেন লবণ পুরোপুরি বাদ দিতে হবে না। লবণ শরীরের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু কার শরীরে কতটা লবণ নিরাপদ, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। তাই সবার জন্য এক নিয়ম মানার চেয়ে প্রয়োজন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
আরআই/টিকে