ইরানে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই বিদেশি এজেন্টদের দ্বারা প্রশিক্ষিত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পেজেশকিয়ান বলেন, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভালোভাবে প্রশিক্ষিত এবং বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছিল, তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকট- মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় মুদ্রার মারাত্মক অবমূল্যায়ন- মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। এসব বাস্তবতা সরকারও উপলব্ধি করছে।
তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি সহিংসতার বিষয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষ ও সহিংসতা দুই পক্ষ থেকেই ঘটছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে বসা এবং দায়িত্ব থাকলে তাদের সমস্যার সমাধান করা। তবে আরও বড় দায়িত্ব হলো, কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানজুড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার পতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরবর্তীতে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়।
টিজে/টিএ