ইরানে বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহ ‘শক্তিশালী হামলা’ চালানোর কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন, দেশটিতে সরকারবিরোধী গণ-বিক্ষোভের বিরুদ্ধে মারাত্মক দমন-পীড়নের ক্রমবর্ধমান প্রতিবেদনের মধ্যে এই ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
এতে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সেনাবাহিনী এটিকে দেখছে এবং আমরা কিছু শক্তিশালী বিকল্পের দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’ রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ‘আলোচনার’ জন্য ফোন করেছিলেন এবং ‘একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছেন, একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে... তারা আলোচনা করতে চান। তবে, ট্রাম্প আরও বলেন যে বৈঠকের আগে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’
এদিকে, রোববার একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের জন্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য মঙ্গলবার ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে দেখা করার কথা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও বিস্তৃত করা এবং সরকার বিরোধী উৎসগুলোকে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা।
এর আগে, ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ না নেয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন।
অন্যদিকে, রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইরান সরকার দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ‘শহীদদের’ জন্য তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্য মূল্যের অসহনীয় দাম বাড়ার কারণে তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। কয়েক দিনের বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ শতাধিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা, জিও নিউজ
পিআর/টিকে