রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জিতে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। তিনি বলেন, অনেকে মনে করছেন বিএনপি জিতে যাবে এবং এটি নিশ্চিতভাবেই দলের পক্ষে বড় প্রভাব তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এ নিয়ে তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন, তবে এই সম্ভাবনার কিছু ঝুঁকিও আছে।
বিএনপির প্রায় নিশ্চিত জয়ের ধারণা তৈরি হলে প্রশাসন, পুলিশ ও মিডিয়া সবাই এলাইন বা একীভূত হয়ে যেতে পারে। যারা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তাদের এই ধরনের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য, কারণ তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং ন্যায়বিচারের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে কিছু প্রাইভেট মিডিয়া বা কর্মকর্তারা অজান্তে একটি দলের পক্ষে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৫ বছরে প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে ক্ষমতাসহিষ্ণু মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
এখন যদি বিএনপি প্রায় নিশ্চিত জয় অর্জন করতে শুরু করে, কিছু অতি উৎসাহী পদক্ষেপ দলের জয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই বিএনপির প্রয়োজন হবে প্রোঅ্যাক্টিভ মনিটরিং, যাতে কোনও প্রার্থী বা কর্মীর আচরণ বা সরকারি কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহ দলের জয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
তিনি বলেন, জনগণ যখন জানতে পারে কোন দল জিততে পারে, তখন তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ফ্লোটিং ভোট আছে- যারা এখনও নিশ্চিত নয় কাদের ভোট দেবেন।
তরুণ ভোটারদের ক্ষেত্রে, যারা ৩৫ বছরের নিচে এবং প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের ভোটের প্যাটার্ন অনিশ্চিত। সাধারণত বাংলাদেশে দেখা যায়, যখন একটি দল প্রায় নিশ্চিতভাবে জেতার পথে থাকে, তখন ফ্লোটিং ভোটারদের সেই দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী এলাকায় যদি বিএনপি প্রার্থী সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং সরকারি প্রকল্পের সমন্বয় সঠিকভাবে দেখাতে পারে, তবে ভোটাররা সহজেই প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত হবে। এভাবেই নিশ্চিত জয়ের জোয়ার দলকে বড় মার্জিনে জেতাতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনটা বিএনপিকে নিজের উদ্যোগেই যাতে বিতর্কিত না হয় সেই চেষ্টা করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত বিএনপির বড় বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই, নির্বাচন সুষ্ঠু ও ভালোভাবে হোক। দলগুলো অবশ্যই তাদের কৌশল ব্যবহার করবে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে সেটা যাতে কোনভাবে রেডলাইন ক্রস না করে। নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি গ্রহণযোগ্য হতে হবে, নাহলে আমাদের সামনে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।
এসকে/টিকে