পিছনের দরজা দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে: ডা. রফিক

দেশের গণতন্ত্র এখনও চূড়ান্তভাবে নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘একটি শক্তি এখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। মানুষের ভোটের রায়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা এই লড়াইয়ের ফল ভোগ করতে পারব।’

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. রফিক বলেন, ‘একটি শক্তি এখনো চেষ্টা করছে কীভাবে পেছনের দরজা দিয়ে এই দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশ শাসন করতে পারে। এই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাহলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অসংখ্য মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে তিনি পুরান ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আসতেন। তখন আমরা বহু নেতাকর্মী তার গাড়িবহরকে এগিয়ে দিতাম। তিনি শুধু বিএনপির নন, সব দলের কাছেই ছিলেন আস্থাভাজন একজন গণতান্ত্রিক নেত্রী।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিদেশে পাঠানোর সব চক্রান্ত উপেক্ষা করে বেগম জিয়া দেশের মাটি ও মানুষের কথা ভেবে দেশ ছাড়েননি। দেশের মাটিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে অমলিন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামও তার সরকারের অবদান। তিনি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছিলেন।’

দোয়া মাহফিলের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া হয়েছে। তার শাহাদাতের পরও দেশের মানুষ তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে। আজকের এই দোয়া মাহফিল আয়োজনের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিটের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।’

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এখন দেশে আছেন। তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।’

এমআই/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পাভেল গ্রেপ্তার Jan 13, 2026
img
ন্যায়ের গল্পে নিয়ে ফিরছে ‘মারদানি থ্রি’ Jan 13, 2026
ইরানের আলোচনা প্রস্তাবের মধ্যেই হামলার হুমকি ট্রাম্পের Jan 13, 2026
বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে সহিংস করা হয়েছে: আরাগচি Jan 13, 2026
img
'হরি হারা ভীরা মাল্লু' ও 'দ্য রাজা সাহাব' এর ব্যর্থতায় হতাশ নিধি আগারওয়াল Jan 13, 2026
১০ মিনিটে গোটা বিশ্বের সারাদিনের সর্বশেষ আলোচিত সব খবর Jan 13, 2026
আমি ৪ বার মন্ত্রী ছিলাম, মেয়রও হয়েছি—মোটামুটি অভিজ্ঞতা নিয়েছি Jan 13, 2026
img
নির্ধারিত সময়ের আগেই আসছে রানি মুখার্জির ‘মারদানি থ্রি’ Jan 13, 2026
img

ছন্দা বিনতে সুলতান

‘সংসার টেকেনি বলে তাহসান-মিথিলা ও রোজাকে খারাপ ভাবা ঠিক নয়’ Jan 13, 2026
বিএনপিকে ক্ষমতায় চায় ৩৪.৭ শতাংশ ভোটার, জামায়াতকে ৩৩.৬ Jan 13, 2026
'আমার মত এই গেটাপের যারা আছি আমরা কিন্তু এভারেজ ম্যাচ ফিমেল না' Jan 13, 2026
অভিনয়ে ৩০ বছর পূর্তিতে ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন খোলা চিঠি রানি মুখার্জির Jan 13, 2026
চট্টগ্রাম-সিলেটকে নিয়ে কোয়ালিফায়ারে উঠল রাজশাহী Jan 13, 2026
img
২ হাজার দশকের শুরুতে বলিউডে হৃতিক রোশানের উত্থানের স্বর্ণযুগ Jan 13, 2026
img
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে: আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া Jan 13, 2026
img
ইরানে সামরিক হামলার বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন Jan 13, 2026
img
তিন বছর পর ফিরছে ভেঙে যাওয়া সেই জুটি Jan 13, 2026
img
শীতে ত্বক শুষ্ক-জেল্লাহীন, প্রাণ ফেরানোর কৌশল শেখালেন মাধুরী Jan 13, 2026
img
সামরিক পদক্ষেপের আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় জোর দিচ্ছেন জেডি ভ্যান্স Jan 13, 2026
img
বড়দের মঞ্চে ১৬ বছরের অভিনেতার বাজিমাত! Jan 13, 2026