দুই হাজার দশকের শুরুর সময়টি ছিল বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশানের উত্থানের স্বর্ণযুগ। এই সময়েই তিনি কেবল চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেননি, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের শীর্ষ তারকাদের কাতারে। ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে অভিষেকেই নজিরবিহীন সাফল্য পান তিনি। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ছবিটি সুপার ব্লকবাস্টার হিসেবে বিবেচিত হয় এবং হৃতিক রাতারাতি হয়ে ওঠেন দর্শকপ্রিয় হৃদয় জয়ী নায়ক।
এরপর ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি বক্স অফিসে রেকর্ড পরিমাণ উদ্বোধনী আয় এনে দেন। এই ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যেই ‘কভি খুশি কভি গম’ ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডের রাজকীয় তারকাদের তালিকায় নিজের জায়গা আরও পোক্ত করেন। বহু তারকাবহুল এই ছবিটি ব্লকবাস্টার সাফল্য পায়।
হৃতিকের অভিনয় দক্ষতার ভিন্নমাত্রা দেখা যায় ‘কোই মিল গয়া’ ছবিতে। সংবেদনশীল ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান। ছবিটি সুপার হিট হিসেবে সফল হয়। এরপর আসে ‘কৃষ’, যা ভারতের প্রথম সুপারহিরো চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস গড়ে। ছবিটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ব্লকবাস্টার সাফল্য পায় এবং উদ্বোধনী আয়েও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে।
এরপর ‘ধুম টু’ ছবিতে তার স্টাইল ও উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছবিটি আবারও রেকর্ড গড়া ব্লকবাস্টার হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ‘কাইটস’ ছবি নিয়ে মতবিরোধ ছিল, তবুও মুক্তির শুরুতে ছবিটির ব্যবসা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী, যা হৃতিকের বাজারমূল্য ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
এই সময়টা কেবল একজন তারকার উত্থান নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ঘটনাই বলা যায়। দুই হাজার দশকে হৃতিক রোশান হিন্দি চলচ্চিত্রের নায়কের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন, শক্তিশালী অভিনয়, বহুমাত্রিক চরিত্র ও দুর্দান্ত উপস্থিতির মাধ্যমে। সময় এসেছে সেই আগুন আবার ফিরিয়ে আনার। বলিউডের সিংহাসন এখনও তার অপেক্ষায়।
এমআর/টিএ