হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জনতার হাতে আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এনামুল হক সাকিবসহ তার তিন সহযোগী। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন- শহরতলীর উমেদনগরের আব্দুল মতিনের ছেলে এনামুল হক সাকিব, পুরান হাটির শাহ আলমের ছেলে মো. শিহাব আহমেদ এবং নসরতপুরের আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে মো. মোশারফ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শেখ জামাল অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক শেখ জামাল মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল সাকিবের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র। ১৫ দিন আগে হুমকি-ধমকি ও মামলার দিয়ে শেখ জামালের কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাকিব।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাকিব ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ জনতা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। উত্তেজিত জনতা তিনজনকে হাতেনাতে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় সোপর্দ করে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে শহরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। মামলার ভয় দেখানো এবং ‘ডেভিল’ হিসেবে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্রটি।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর শহরের মহিলা কলেজ রোডে বাবুল হরিজন নামে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে সাকিব। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। সে সময় সাকিব পালিয়ে গেলেও তার সহযোগীরা সাকিবের নির্দেশেই হামলার কথা স্বীকার করেছিল।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শেখ জামাল বলেন, ‘এনামুল সাকিব কয়েক দিন আগেও মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা নিয়েছে। মঙ্গলবার আবার দলবল নিয়ে ২ লাখ টাকা চাইতে এলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।’
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সেনাবাহিনী তিনজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেএন/এসএন