ইরানে সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ দমনে দেশটির শাসকরা যখন কঠোর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করেছে, ঠিক তখন বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় বড় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ইরানি নাগরিকদের জন্য তার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা 'স্টারলিংক' সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে ইরানে সচল থাকা স্টারলিংক টার্মিনালগুলোর সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ করা হয়েছে বলে প্রযুক্তিনির্ভর অলাভজনক সংস্থা 'হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স'-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানে গত কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই ব্ল্যাকআউটের আড়ালে অন্তত ১৮০০ থেকে ২৫০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে। যোগাযোগের সব পথ বন্ধ থাকায় নিহতের সঠিক সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের মানুষের জন্য বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র জানালা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্টারলিংক।
ট্রাম্প-মাস্ক ফোনালাপ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইলন মাস্কের মধ্যে এক ফোনালাপে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরপরই স্টারলিংক ফ্রি করে দেওয়ার এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপসহ সব বিকল্প পথ খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
বাধা ও প্রতিকূলতা ইলন মাস্ক ফ্রি ইন্টারনেটের সুবিধা দিলেও ইরানের সরকার তা রুখতে মরিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান সরকার রাশিয়ার মতো 'মিলিটারি-গ্রেড' জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টারলিংক সিগন্যাল অচল করার চেষ্টা করছে।
জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করার ফলে অনেক জায়গায় স্টারলিংক সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন থাকছে না। ইরানে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা বা ব্যবহার করা এখন মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ৯ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে প্রায় ৫০ হাজার স্টারলিংক রিসিভার বর্তমানে একটি 'ছোট জানালা'র মতো কাজ করছে, যার মাধ্যমে দমন-পীড়নের তথ্য বহির্বিশ্বে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
কেএন/এসএন