প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিঙ্গাপুরে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির আদালতে এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত্যুর দিন জুবিন মারাত্মকভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন। এমনকি প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন এবং পুনরায় পরার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তাতে সম্মত হননি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে জুবিন গার্গের মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়। বুধবার আদালতে পেশ করা তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সাঁতার কাটতে গিয়ে একাধিকবার অচেতন হয়ে পড়ছিলেন জ়ুবিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সেই অবস্থাতেই তিনি কোনওমতে সাঁতার কেটে ইয়টের দিকে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।
পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে জ়ুবিনকে উদ্ধার করা হয়। তাকে সিপিআরের মাধ্যমে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে আরও জানান, জ়ুবিন উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগীরোগে ভুগছিলেন। এর আগেও ২০২৪ সালে মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার দিন ইয়টে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জ়ুবিন ওই দিন জিন ও হুইস্কি পান করেছিলেন। সেই ইয়টে গায়কের সহযোগী দলের সদস্য, বন্ধু ও পরিচিত মিলিয়ে প্রায় বিশ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকেই সঙ্গে খাবার ও মদ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি অসমেও জুবিন গার্গের মৃত্যুর তদন্ত চলছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এই মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। সেই তদন্তে ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে অসম পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সিঙ্গাপুরের উত্তর-পূর্ব উৎসবের এক আয়োজক, জুবিনের আপ্তসহায়ক, তাঁর ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য, এক তুতো ভাই এবং দুই নিরাপত্তারক্ষী।
একদিকে সিঙ্গাপুরের আদালতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ব্যাখ্যা, অন্যদিকে অসমে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ।
পিআর/টিএ