চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাম্প্রতিক একটি শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি এক উপ-উপাচার্যের মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্ট দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি উপ-উপাচার্যের মেয়েকে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাবার সূত্রে ক্ষমতা প্রয়োগের সম্ভাবনা আছে এইখানে, স্বভাবতই এইটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেছে। আরেকটা কারণে এই প্রশ্নটা বেশী করে উঠতেছে, যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তিনি অনার্সে অষ্টম (আরও তিনজন যুগ্মভাবে অষ্টম ছিল) এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় ছিলেন (সিরিয়ালে ৩য়, দুইজন যুগ্মভাবে ফার্স্ট ছিল)। যেহেতু তার সাথে কম্পিটিশানে তার সমান এবং আরও ভাল স্টুডেন্টরা ছিল, কাজেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কিনা - এইটা একটা ভ্যালিড প্রশ্ন।
তিনি আরও লেখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা ছিল, ভাইভা ছিল, আর প্রেজেন্টেশান ছিল। এই তিন পরীক্ষার নম্বর এক সাথে যোগ করে ফাইনাল মেধা তালিকা করা হয়েছে। স্বচ্ছতার জন্য ক্যান্ডিডেটদের নাম প্রকাশ না করে যাদের নিয়োগ দেওয়া হইছে, আর যাদের দেওয়া হয় নাই, তাদের এই টোটাল নম্বর তালিকা পাবলিকলি প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি। এই নম্বর তালিকা দেখলে আমাদের একটা ভাল আইডিয়া হবে যে নিয়োগ কতটুকু স্বচ্ছ হইছে।
সবশেষ মির্জা গালিব লেখেন, এই নিয়োগ নিয়ে পাবলিক পরিসরে এখন যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে- এটা উন্নতির লক্ষণ। এইভাবে আলাপ আলোচনা হলেই আমরা ধীরে ধীরে একটা স্বচ্ছ এবং মেরিট ভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতিতে যেতে পারব। মেরিটোক্রাসি ছাড়া আমাদের উন্নতির আর কোন পথ নাই।
পিএ/টিএ