বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি অনেক ভালো। যদিও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে হিন্দুত্ববাদী সরকারের উত্থানের ফলে সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ভারত এখন নাই। আমরা চাই, ভারতে যা-ই হোক, বাংলাদেশে যেন সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। আমার ভারতের দিকেও তাকিয়ে নাই, বহির্বিশ্বের দিকেও তাকিয়ে নাই।
এদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা এদেশরই নাগরিক, এদেশেই তারা জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আমার সবসময় সচেষ্ট থাকব। আমরা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে গর্ববোধ করি। সবসময় যেন এটি বজায় থাকে।
এটি যেন চিরস্থায়ী হয়, এ জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এ সম্প্রদায়ভুক্ত হিসেবে আমি রাজনীতি করি বা না করি, সবসময় সচেষ্ট থাকব যাতে এখানকার হিন্দু ভাই-বোনদের নিরাপত্তা কোনোক্রমে বিঘ্নিত না হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শ্রী শ্রী অনীল বাবাজি আশ্রমে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আহত হয়েছি। সেদিন অনেক স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত আমাদের সেই কল্পনা অতীতেই রয়ে গিয়েছে। না গণতন্ত্র বিকশিত হয়েছে।
সুতরাং আমার আশা করব, গণতন্ত্র পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চিরস্থায়ী হবে। আমরা সেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখার জন্য প্রতীক্ষায় রইলাম। আগামী নির্বাচনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, যখনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখনই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীর এসে তাদেরকে পাহারা দেয়। আমার সবসময় চেষ্টা করি এখানে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়, সামাজিক সুবিচার যেন বিনষ্ট না হয়। সেই জন্য আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করতে করতে পারি, আগামী দিনেও কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে না। ভারতের বাবরি মসজিদের ঘটনা ও সম্প্রতি ক্রিকেটার মুস্তাফিজের ঘটনা আমাদেরকে আঘাত করে। তার মানে এই নয় আমার ভারতকে অনুসরণ করব। এখানের যে মুসলমান সম্প্রদায় আছে, তারা সবসময় হিন্দু ভাইদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য এগিয়ে আসবে। অতীতেও এসেছে, ভবিষ্যতে আসবে এবং আমি নিজে দায়িত্ব নিয়েছি তাদের দেখাশোনা করার।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তজুমদ্দিন উপজেলার সভাপতি অরবিন্দ দে টিটুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, একেএম মহিউদ্দিন জুলফিকার, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হাসান সাফা পিন্টু প্রমুখ।
পিএ/টিএ