আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম. এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল ও আপিল নামঞ্জুরের ঘটনাকে আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত, সংবিধান লঙ্ঘন এবং পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টের অজুহাতে মনোনয়ন বাতিল করা হলেও উক্ত রিপোর্টের ওপর হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনার কর্তৃক তা প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করা হয়েছে যা নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানান তিনি।
এম. এয়াকুব আলী বলেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় আমার মনোনয়ন বাতিল ও আপিল নামঞ্জুর করা মানে সংবিধান, বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্রকে একসঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।
তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের পর গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার বেআইনিভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এর পরপরই তিনি হাইকোর্টে রিট করলে গত ৬ জানুয়ারি আদালত সিআইবি রিপোর্টের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল দায়ের করা হলে কমিশন ধার্য্যকৃত গত ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ একতরফাভাবে তার আপিল খারিজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় এম এয়াকুব আলী আরও বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার যদি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নিজের খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থাকে না, তা পরিণত হয় একটি দলীয় দপ্তরে।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। মোট প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণের অধিকাংশই নিয়মিত, বাকি অংশ বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবগত জটিলতা ও মামলা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশাধীন। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।
এ রাজনীতিবিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামে যেখানে একটি বিশেষ দলের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে বৈধতা পায়, সেখানে আমাকে টার্গেট করে মাঠের বাইরে রাখার অপচেষ্টা স্পষ্ট ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ জেলা এলডিপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচন খুব কাছ থেকে দেখেছি। এবার প্রশাসনের একটি অংশকে ব্যবহার করে আগেই ফল নির্ধারণের নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে যদি নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগের আদেশ অমান্য করে, তাহলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এম. এয়াকুব আলী জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশের সইমুরী নকল সংগ্রহ করে তিনি আগামী ১৮ জানুয়ারি পুনরায় মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করবেন এবং এই সংবিধানবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখবেন।
পিএ/টিএ