ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আমার মা ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বক্তব্যে সংগঠনের চেয়ারম্যান জি এম কামরুল হাসান বলেন, আমার মা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন মা সম্মান পায়, যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, কৃষক ন্যায্য মূল্য পায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। মানুষের সম্মান, মায়ের মর্যাদা ও যুবকের ভবিষ্যৎ-এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে যে-সব নির্বাচনী অঙ্গীকার উপস্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো-
১. গৃহিণী মায়েদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি : গৃহিণী মায়েদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা চালু করে তাদের শ্রম ও অবদানকে অর্থনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান। এর মাধ্যমে পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও শিশুদের সুস্থ ও নিরবচ্ছিন্ন বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা।
২. বেকার যুবসমাজকে রাষ্ট্রীয় খরচে প্রশিক্ষণ ও বিদেশে কর্মসংস্থান : বেকার যুবসমাজকে অর্থনৈতিক স্তম্ভে রূপান্তর করে রাষ্ট্রের খরচে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও বেকারত্ব হ্রাস নিশ্চিত করা।
৩. সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা উন্মুক্তকরণ (অভিজ্ঞতাভিত্তিক ব্যবস্থা) : প্রতিরক্ষা বাহিনী ও বিশেষ কিছু বিভাগ ব্যতীত সরকারি চাকরিতে বয়ঃসীমার পরিবর্তে যোগ্যতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ নীতির সংস্কার।
৪. বিক্রয় ও বিপণন পেশাজীবীদের কর্ম নিরাপত্তা : দেশের প্রায় ৫৫ লাখ বিক্রয় ও বিপণন পেশাজীবীদের জন্য কর্ম নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসুবিধা ও পেনশন স্কিম চালু করা।
৫. এএমএফ হোম ইয়ার্ড ইকোনোমি বাস্তবায়ন : হোম ইয়ার্ড ইকোনোমি তত্ত্ব বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি ও অতিদরিদ্রতা স্থায়ীভাবে নির্মূল করা।
৬. সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের স্বাধীন কর্মপরিবেশ : সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৭. ধর্মীয় নেতৃত্বের রাষ্ট্রীয় সম্মান : সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিবসহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান।
৮. প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা : একটি মেধাবী ও উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান।
৯. জাতীয় উন্নয়ন ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান।
১০. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : সব ধরনের দুর্নীতির অবসানে কঠোর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
১১. সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধুনিক ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১২. কৃষিকে প্রধান অর্থনৈতিক খাত ঘোষণা ও সুদমুক্ত কৃষি ঋণ : কৃষকদের জন্য বিনা সুদে কৃষি ঋণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
১৩. গৃহকর্মীদের আর্থিক ও কর্ম নিরাপত্তা : গৃহকর্মে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য ন্যায্য মজুরি, জীবনবিমা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
১৪. নিরাপদ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রশিক্ষিত চালক এবং নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১৫. স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রবর্তন : রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিম্নবিত্ত জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু করে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
১৬. নেশা ও মাদকমুক্ত দেশ গঠন : যুবসমাজের জন্য আদর্শ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
১৭. নারী ও কন্যাশিশু সুরক্ষা : নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ।
১৮. সিনিয়র সিটিজেন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ : প্রবীণ নাগরিকদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা নিশ্চিত করা।
১৯. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি : নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা সম্প্রসারণ।
২০. গ্রামে কুটির শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করে শহরমুখী জনস্রোত কমানো।
২১. প্রবাসী কল্যাণ ও সুরক্ষা বাতায়ন : প্রবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ রেমিট্যান্স ব্যবস্থা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ।
২২. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা : নদী, বন ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
আরআই/টিকে