যখন সঠিক সময় আসবে, তখন ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
স্থানীয় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সফরে গিয়ে এ ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। খবর বিবিসি ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি মিশন, এবং আমরা ভেনেজুয়েলাকে সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণময় ভূমিতে পরিণত করব। আমি বিশ্বাস করি, সময় এলে আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হব—দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।’
এই মন্তব্য আসে এমন এক দিনের মাথায়, যখন তিনি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক দেন এবং এটিকে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত নানা অভিযোগে বিচার চলবে।
তবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে মাচাদোকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, দেশটির ভেতরে মাচাডোর যথেষ্ট সমর্থন নেই—যদিও বিরোধী আন্দোলন দাবি করছে, ২০২৪ সালের বহুল বিতর্কিত নির্বাচনে তারাই জয়ী হয়েছিল।
এর পরিবর্তে তিনি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করছেন; রদ্রিগেজ আগে মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাচাদো বলেন, ‘আমি আমার দেশকে সেখানে সেবা দিতে চাই, যেখানে আমি সবচেয়ে বেশি উপকারী হতে পারি। আমি একটি ম্যান্ডেট পেয়েছি, এবং সেই ম্যান্ডেট আমার আছে।’
ওয়াশিংটন সফরের সময় তিনি কংগ্রেসে মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সমর্থকরা—‘মারিয়া, প্রেসিডেন্টে’ স্লোগান দেন এবং ভেনেজুয়েলার পতাকা নাড়াতে দেখা যায়।
এদিকে কারাকাসে, রদ্রিগেজ সিআইএ পরিচালক-এর সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন, যা ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে’ অনুষ্ঠিত হয় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান। উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ গড়ে তোলা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচালক র্যাটক্লিফ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন এবং জানান যে ভেনেজুয়েলা আর আমেরিকার প্রতিপক্ষদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে না।’
একই দিনে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে তিনি ভয় পান না,‘কূটনৈতিকভাবে, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলাকে তার ‘মর্যাদা ও সম্মান’ রক্ষা করতে হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তেল শিল্পে সংস্কারের ঘোষণা দেন, যা মাদুরোর নীতির থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। বুধবার ট্রাম্প রদ্রিগেজকে ‘একজন দারুণ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন, তাদের ফোনালাপের পর।
আইকে/টিকে