বর্তমান সময়ে আমাদের খাবারের প্রধান দুই উপাদান ভাত ও রুটি। এর মধ্যে কোথাও ভাত খাওয়ার আধিক্য বেশি কোথাও আবার রুটি খাওয়ার আধিক্য বেশি। রুটির ক্ষেত্রেও সাধারণত গমের আটার রুটি খাওয়ার চল বেশি।
আপাতদৃষ্টিতে তা স্বাস্থ্যকর মনে হলেও অনেকেই গমের আটার রুটি খেয়ে হজমের সমস্যা, রক্তে শর্করা বৃদ্ধি, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং পুষ্টির ঘাটতির মতো সমস্যায় ভোগেন।
আর এসব সমস্যার কারণে পুষ্টিবিদদের অনেকেই গমের আটার রুটির পরিবর্তে অনান্য উপাদানের রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিভিন্ন ধরনের আটা ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের জন্য তা ভালো। গম ছাড়া কোন ৬ উপাদানের রুটি আপনার জন্য যুৎসই, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
বাজরার রুটি
বাজরায় থাকে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিড এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি শরীর গরম রাখে, রক্ত গঠনে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই রুটি দারুণ উপকারী। চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো এবং প্রদাহ–বিরোধী গুণ থাকায় হজমের সমস্যা হয় না।
জোয়ারের রুটি
জোয়ারে থাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও ভিটামিন বি। গবেষণায় দেখা গেছে, জোয়ার কম ক্যালরি যুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
এটি গ্লুটেন–ফ্রি হওয়ায় গ্লুটেন সংবেদনশীলদের জন্য উপযোগী এবং হার্টের জন্য ভালো।
রাগির রুটি
রাগি ক্যালসিয়ামে ভরপুর। তাই হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। জার্নাল অব ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, রাগিতে থাকা উচ্চ ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমায়। রাগিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও আছে, যা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে।
ভুট্টার রুটি
ভুট্টার রুটি আমাদের কাছে মক্কাইয়ের রুটি নামেও পরিচিত। এই রুটি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এবং দ্রুত শক্তি দেয়। শীতে এই রুটি খুবই জনপ্রিয়। তবে অনেকের কাছে ভুট্টার রুটি ভারী বলে মনে হয়। নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যাও হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
চালের রুটি
চালের রুটি হালকা, গ্লুটেন–ফ্রি এবং সহজে হজম হয়। সংবেদনশীল পেটের জন্য উপযোগী। এটি পাকস্থলীকে আরাম দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।
বেসনের রুটি
বেসনের রুটিতে প্রচুর প্রোটিন ও ফাইবার থাকে। এতে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে খুব সহায়ক।
এমকে/এসএন