রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে তেলের পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহাকে (২৯) গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঠিকাদার আবুল হাসেম সুজনসহ (৫৪) তার গাড়ি চালক মো. কামাল হোসেন সরদারকে (৪৩) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের রাজবাড়ী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে তোলা হয়। এসময় আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসানের কাছে গাড়িচালক কামাল হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সুজনের গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহা। পরে পুলিশ সুজন ও গাড়িচালক কামালকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। ওই দিন রাতেই নিহতের ছোট ভাই প্রতাপ সাহা বাদী হয়ে দুইজনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত রিপন সাহা রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাহাপাড়া এলাকার পবিত্র সাহার ছেলে। তিনি গোয়ালন্দ মোড়ের মেসার্স করিম ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রিপন সাহা দেড় বছর পূর্ব থেকে গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে অয়েলম্যান (তেল সরবরাহকারী) হিসেবে কাজ করে আসছিল।গত ১৬ জানুয়ারি ভোর সোয়া ৪টার দিকে একটি জিপ গাড়ি ড্রাইভারসহ দুইজন ব্যক্তি করিম ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য আসে। তারা এই ফিলিং স্টেশন থেকে ৫ হাজার টাকার তেল নেয়।
তেল নেওয়ার পর অয়েলম্যান রিপন গাড়ির মালিক ১নং আসামি আবুল হাসেম সুজনের কাছে টাকা চাইলে সে টাকা দিতে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে তারা টাকা পরিশোধ না করে গাড়ি নিয়ে ফিলিং স্টেশেন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। তখন তেল সরবরাহকারী ডিসিষ্ট রিপন সাহা ওই গাড়ির সামনে গিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করিলে সে ওই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, তেলের পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মামলায় সুজন ও কামাল হোসেনকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এসময় গাড়ি চালক কামাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরআই/টিকে