রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. আবুল হাসেম সুজন (৫৪) যুবদলের কেউ না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এ ব্যাপারে যুবদলকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইঁয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, মো. আবুল হাসেম সুজন নামে জনৈক এক গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে করিম ফিলিং স্টেশনে তেলের টাকা চাইতে যাওয়া শ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাকে যুবদল নেতা পরিচয়ে গতকাল থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মো. আবুল হাসেম সুজন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিগত ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি রাজবাড়ী শহরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা যুবদলের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যা দৈনিক মানবজমিনসহ জাতীয় ও স্থানীয় অনেক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে সুজনের সাথে যুবদলের দূরতমও কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আজ থেকে প্রায় ৭ বছর পূর্বে পদত্যাগ করা একজনকে যুবদল পরিচয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা সত্যই দুঃখজনক। জাতীয়তাবাদী যুবদল সব সময় সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী এবং কোনো রকমের বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেয় না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়,কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ নেই। তাই অপরাধীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক বন্ধুদের এবং এ জাতীয় অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল আনাম বকুল (ভিপি বকুল) বলেন, ২০১৯ সালে পদত্যাগের পর থেকে সুজনের সঙ্গে বিএনপি বা যুবদলের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও তাকে দলীয় নেতা হিসেবে পরিচয় করানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং দলকে অকারণে দোষী করার চেষ্টা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি ও যুবদলের সব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন সুজন। রাজবাড়ী শহরে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন তিনি জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও জেলা যুবদলের সভাপতি পদে ছিলেন।
আরআই/টিকে